নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বৃহস্পতিবারের প্রবল বৃষ্টির রেশ তখনও কাটেনি। জগাছার সাতাশি চ্যাংড়াজলা এলাকায় রাস্তাঘাট আর নর্দমার ফারাক কার্যত মুছে গিয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান জল, কোথাও সেই জল ঢুকে পড়েছে বাড়ির ভিতরে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার সকালে সাদা পাঞ্জাবি পরে এক হাঁটু কাদা জলে নেমে পড়লেন শিবপুরের বিধায়ক তথা হাওড়া পুরসভার পরিচালন কমিটির সদস্য রুদ্রনীল ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন পুরসভার কমিশনার, ইঞ্জিনিয়ার সহ পদস্থ আধিকারিকরা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা শোনেন তিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই এই নীচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। নর্দমার নোংরা জল উপচে রাস্তায় চলে আসে। ছাত্রছাত্রীদের সেই জলের মধ্যে দিয়েই হেঁটে স্কুল-কলেজে যেতে হয়, অফিসযাত্রীদেরও একইভাবে যাতায়াত করতে হয়। প্রায় দুই হাজার মানুষ কার্যত জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। বছরের পর বছর এই সমস্যার কথা পুরসভাকে জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলেই দাবি তাঁদের। বাসিন্দাদের অভিযোগ শোনার পর রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নিকাশি ব্যবস্থা এবং পূর্বতন পুরবোর্ডের উদাসীনতার ফলেই আজ এই পরিণতি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই হাওড়ার নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ৪,৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে আশ্বাস দিয়ে বিধায়ক বলেন, ‘রাতারাতি কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। পরিকল্পনামাফিক ধাপে ধাপে কাজ হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই, যাতে বর্ষাকালেও হাওড়ার মানুষকে আর প্লাস্টিকের চটি পরে বেরতে না হয়। নিশ্চিন্তে চামড়ার জুতো পরেই চলাফেরা করতে পারবেন তাঁরা।’ আপাতত জমা জল দ্রুত নামানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে পাম্প বসানো সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি নিকাশি সংস্কারের কাজও পর্যায়ক্রমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন বিধায়ক।