Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাটির সংকট নিয়ে কুমোরটুলিতে খোঁজ নিলেন বিধায়ক, দ্রুত সমাধানের আশ্বাস

কুমোরটুলিতে মাটির সংকট নিয়ে বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তী মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস। বিস্তারিত পড়ুন।

মাটির সংকট নিয়ে কুমোরটুলিতে খোঁজ নিলেন বিধায়ক, দ্রুত সমাধানের আশ্বাস
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিমা তৈরিতে মাটির সংকট নিয়ে বৃহস্পতিবার কুমোরটুলিতে গিয়ে খোঁজ নিলেন স্থানীয় বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তী। তিনি মৃৎশিল্পীদের ঘরে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। পটুয়াপাড়ার প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তারা সেখানে হাজির ছিলেন। তাঁরা তাঁদের সমস্যার কথা জানান বিধায়ককে। মাটির অভাবে কীভাবে কুমোরটুলির স্বাভাবিক কাজকর্ম অচল হয়ে পড়েছে, তা নিয়েও তাঁদের বক্তব্য পেশ করেন। সমস্যা মেটাতে পূর্ণিমাদেবী বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি কুমোরটুলির সামগ্রিক পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখেন।

Advertisement

এদিকে, বৃহস্পতিবার কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংগঠনের কর্মকর্তাদের এক প্রতিনিধি দল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসে। সেখানে ডায়মন্ডহারবার থানা ও সংশ্লিষ্ট ভূমিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জট কাটাতে উভয় তরফে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এদিন সন্ধ্যায়  মৃৎশিল্পী সংগঠনের কর্তা বাবু পাল বলেন, ‘আলোচনা কিছুটা ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা আমাদের বক্তব্য জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। পরবর্তী পদক্ষেপও আমরা ই‑মেল করে প্রশাসনকে জানাব। তার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেব।’ মৃৎশিল্পীদের একাংশ জানিয়েছে,  ‘দুর্গাপুজো এগিয়ে আসছে। যত তাড়াতাড়ি সমস্যা মেটে, ততই আমাদের মঙ্গল। কারণ দীর্ঘদিন মাটি নিয়ে সমস্যা থাকলে তাতে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করতে আমাদের সমস্যায় পড়তে হবে। আর এক সঙ্গে যদি একাধিক প্রতিমার বায়না আসে, তাতে সঠিক সময়ে প্রতিমা তৈরি করে উদোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আমরা চাই, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।’
এদিনও কুমোরটুলি বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সেখানে বিভিন্ন মৃৎশিল্পীর ঘরে কাজ চলছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। বেশ কয়েকজন মৃৎশিল্পী আক্ষেপ করে বলেন, ‘মাটিই যদি না থাকে, তাহলে কী দিয়ে প্রতিমা হবে? ফলে প্রতিমা তৈরির কাজকর্ম ঠিকমতো হচ্ছে না।’ কুমোরটুলি স্ট্রিটের দুই শিল্পী বলেন, ‘এখন কিছু ফাইবারের মূর্তির বরাত পেয়েছি, তার কাজ চলছে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।’ বিভিন্ন শিল্পীর ঘরে কাজ করা কয়েকজন কারিগর বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি চললে কাজ থাকবে কি না, সন্দেহ। কারণ মালিক পক্ষ তো বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেবেন না। তাই আমরা অত্যন্ত চিন্তায় রয়েছি।’

সম্পর্কিত সংবাদ