Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাবড়া পুরসভায় দু’দফার বৈঠকেই কড়া বার্তা দিলেন বিধায়ক দেবদাস

‘হাবড়ার মানুষ পরিবর্তন চেয়েছেন, আর সেই পরিবর্তন চোখে পড়বে কাজের মধ্যে দিয়ে’। বিধায়ক হয়ে এমনই ‘গ্যারান্টি’ দিচ্ছেন দেবদাস মণ্ডল

হাবড়া পুরসভায় দু’দফার বৈঠকেই কড়া বার্তা দিলেন বিধায়ক দেবদাস
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘হাবড়ার মানুষ পরিবর্তন চেয়েছেন, আর সেই পরিবর্তন চোখে পড়বে কাজের মধ্যে দিয়ে’। বিধায়ক হয়ে এমনই ‘গ্যারান্টি’ দিচ্ছেন দেবদাস মণ্ডল। মঙ্গলবার হাবড়া পুরসভায় কাউন্সিলারদের বৈঠকে সেই বার্তাকে আরও জোরালো করলেন তিনি। পুরসভার অন্দরমহলে ঢুকে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, ‘পুরানো নিয়মে’ আর কিছু চলবে না। মঙ্গলবার বিকালে হাবড়া পুরসভায় প্রথমে আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। তারপর কাউন্সিলারদের নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। সেখানেই বিধায়কের কড়া বার্তা, ‘১০ পয়সাও তোলাবাজি চলবে না। সাধারণ মানুষের কাজ আটকে রেখে টাকা তোলা, কাটমানি নেওয়া বা প্রভাব খাটিয়ে কোনো কাজ বরদাস্ত হবে না। এসব করলে জেলে যেতে হবে।’

Advertisement

হাবড়া কেন্দ্রে তিনবার বিধায়ক ছিলেন তৃণমূলের জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু)। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ভেঙে ২৬-এর বিধানসভায় জয় পেয়েছেন বিজেপির দেবদাস মণ্ডল। মঙ্গলবার দেবদাসবাবু পুরসভায় ঢুকতেই ছবিটা যেন পুরো বদলে গেল। এদিন একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, হাবড়া পুরসভায় পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে। হাবড়া সুপার মার্কেটে বেআইনিভাবে দোকান দেওয়া থেকে শুরু করে প্রভাব খাটিয়ে পুরসভার সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। বেআইনি পুকুর ভরাট, অবৈধ নির্মাণ, জবরদখল— সব কিছু নিয়েই অভিযোগের পাহাড় আছে। জমি মিউটেশনের নামেও ‘আন্ডার দি টেবিল’ অনেক কিছু হয়েছে। দেবদাসের কথায়, ‘মানুষ পুরসভায় পরিষেবা নিতে আসবেন, আর তাঁদের হয়রানির শিকার হতে হবে—এটা চলতে পারে না। পুরসভা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এটা মানুষের প্রতিষ্ঠান। এখানে মানুষের কাজ দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নিয়ম মেনে করতে হবে। জবরদখল হওয়া সম্পত্তি এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত সমস্ত নথি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। এছাড়াও ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ ও ‘অম্রুত’ প্রকল্পের নথি দেখাতে হবে। দেবদাসের সংযোজন, পুরকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে। যোগ্যতার বদলে দলীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে পুরসভাকে আরও কার্যকর ও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে তিনি একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই কমিটিতে থাকবেন বিধায়কের প্রতিনিধি ও পুরসভার প্রতিনিধিরা। মূল উদ্দেশ্য, দ্রুত সমস্যার সমাধান, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং পরিষেবাকে আরও উন্নত করা।
পুর চেয়ারম্যান বলেন, বিধায়কের পরামর্শ নিয়েই আগামী দিনে পুরসভা পরিচালিত হবে। এদিকে, বৈঠকে তৃণমূলের অন্তর্কলহের ছবিও সামনে আসে। হাবড়া পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অবন্তী দাস প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ