Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘নো কস্ট’ নদী খননে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ বিধায়কের, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের তথ্য তলব

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ ঢিমেতালে চলায় ক্ষুব্ধ ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট।

‘নো কস্ট’ নদী খননে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ বিধায়কের, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের তথ্য তলব
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ ঢিমেতালে চলায় ক্ষুব্ধ ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট। পাশাপাশি, নদী ও খাল সংস্কারের নামে ‘নো-কস্ট’ মডেলে ব্যাপক বালি ও মাটি লুটের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মহকুমা শাসকের দপ্তরে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে এই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আধিকারিকদের অস্বস্তিতে ফেলেন বিধায়ক। দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা এই প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেই তিনি প্রশাসনের সঙ্গে এই বিশেষ আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শিলাবতী, কংসাবতী এবং রূপনারায়ণ নদীর জল সামান্য বাড়লেই ঘাটাল ও দাসপুর সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যায়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বহু বছর আগে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের পরিকল্পনা হলেও আর্থিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনে তা এখনও বিশ বাঁও জলে। এদিন মহকুমা শাসক সুদীপ্ত সাঁতরা, সেচ আধিকারিক উজ্জ্বল মাখাল এবং ঘাটাল ও দাসপুরের বিডিও সহ অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিধায়ক। সেখানে তিনি প্রকল্পের বর্তমান অবস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তলব করেন আধিকারিকদের থেকে।

Advertisement

বৈঠক শেষে বিধায়ক অভিযোগ করেন, কয়েকটি স্লুইস গেট এবং দু’টি পাম্প হাউস নির্মাণ ছাড়া মাস্টার প্ল্যানের কাজে আর কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি তাঁর চোখে পড়েনি। বিশেষ করে ‘নো-কস্ট’ পদ্ধতিতে নদী খননের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট দাবি, বন্যা প্রতিরোধের জন্য যেখানে খনন জরুরি ছিল, সেখানে কাজ হয়নি। বরং যেখানে বেশি বালি মিলেছে, সেখানেই মুনাফার লোভে যথেচ্ছ খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছে। এই বালি ও মাটি চুরির বিরুদ্ধে তিনি ভূমি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে কড়া পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
সাধারণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার কথা মাথায় রেখে মাস্টার প্ল্যানের কাজ দ্রুত শেষ করতে কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারের সঙ্গেই নিরন্তর আলোচনা চলছে বলে শীতলবাবু জানিয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী ১০ জুন এই প্রকল্পের বিষয়ে দ্বিতীয় দফার প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা হয়েছে। তার আগেই খোদ বিধায়ক সরেজমিনে বিভিন্ন নদী ও খাল সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করে কাজের বাস্তব অবস্থা যাচাই করবেন। এর পাশাপাশি, প্রকল্পের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সম্পর্কিত সংবাদ