সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পাথর খাদানের লাইসেন্স, বন্দুকের লাইসেন্স এবং হোটেলের সরাই লাইসেন্স দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে রামপুরহাট মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুললেন বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। শুক্রবার মহকুমা প্রশাসনিক দপ্তরের ওই আধিকারিকের অফিসে ঢুকে আঙুল উঁচিয়ে ধমক দেন বিধায়ক। পাশাপাশি সতর্ক করে দেন, যাতে তিনি নিজেকে শুধরে নেন, অন্যথায় তাঁকে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। পরে জেলাশাসককে ফোন করে বিভাগীয় তদন্তের দাবিও জানান বিধায়ক। যদিও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুশান্তকুমার মাইতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি জেলে যেতেও প্রস্তুত।
এদিন রামপুরহাট মহকুমা শাসকের সঙ্গে উন্নয়ন সংক্রান্ত বৈঠক করেন বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তিনি আশ্বাস দেন, রামপুরহাট শহরের প্রধান সমস্যা যানজট নিয়ন্ত্রণে, রেলের জায়গায় থাকা হকার বা ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ নয়, বরং ডবল ইঞ্জিন সরকারের মাধ্যমে নতুন মার্কেট তৈরি করে পুর্নর্বাসন দেওয়া হবে। চাঁদমারি এলাকার রেল গেটে তীব্র জ্যামের স্থায়ী সমাধানে ইঞ্জিনিয়ারদের কাছ থেকে ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাসের ব্লু-প্রিন্ট বা প্ল্যানিং নেওয়ার কথা বলেছেন বিধায়ক। পাশাপাশি সরকারি জমি থেকে ‘জেহাদি’ দখলদারদের হঠাতে প্রয়োজনে বুলডোজার ব্যবহার করারও বার্তা দিয়েছেন বিধায়ক। রামপুরহাট টাউনহলে লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলেও অভিযোগ। তাতে অডিটের দাবি তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাচীন লাইব্রেরি ও মহকুমা ক্রীড়া সংস্থাকে তৃণমূলের হাত থেকে মুক্ত করে সেখানে ভিজিল্যান্স তদন্তের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে রামপুরহাটে আইনের শাসন কায়েম করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এদিকে এদিন সদ্য নির্মিত একটি হোটেলের ম্যানেজার মানস মুখোপাধ্যায় সরাই লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মহকুমা শাসকের দপ্তরে এসেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হুমকির সুরে বলেন, সরাই লাইসেন্স ছাড়া হোটেল চললে তা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হবে। সেই কথা শুনে তীব্র ক্ষোভে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের ঘরে ঢুকে এবং আঙুল উঁচিয়ে ধমকাতে শুরু করেন বিধায়ক। প্রশ্ন তোলেন, তারাপীঠের মতো বড় পর্যটন কেন্দ্রে যেখানে শয়ে শয়ে হোটেল সরাই লাইসেন্স ছাড়াই চলছে, সেখানে নতুন একটি হোটেলের ক্ষেত্রে এই সরকারি কড়াকড়ি এবং বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি কেন দেওয়া হচ্ছে? রামপুরহাটের মূল অর্থনৈতিক ভিত্তি যে তারাপীঠের পর্যটন শিল্প, তা মনে করিয়ে দিয়ে বিধায়ক বলেন, হোটেল বন্ধ করার মতো জনবিরোধী কাজের জন্য মানুষ বিজেপিকে ভোট দেয়নি। বিধায়ক ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে সরাই এবং বন্দুকের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার নামে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।
এদিকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ওই হোটেলের কর্মীকে আইনের কথা বলা হয়েছে। আর আমার বিরুদ্ধে কোনওরকম দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে আমি জেলে যেতে প্রস্তুত। অপমানিত বোধ করায় আমি লাইসেন্স সংক্রান্ত কোনও কাজ করব না বলে এসডিওকে জানিয়ে দিয়েছি। এব্যাপারে এসডিও অশ্বিন বি রাঠোর বলেন, উন্নয়ন সংক্রান্ত বৈঠক থেকে বিধায়ক বেরিয়ে যাওয়ার পর কী হয়েছে, জানি না। পরে সংবাদ মাধ্যমে ভিডিও দেখলাম। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। • নিজস্ব চিত্র