বৃত্তিমূলক শিক্ষকদের অনলাইন, ফিজিক্যাল  ভেরিফিকেশনের নির্দেশ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, বেতনবৃদ্ধির আগে কেন টালবাহানা, উঠছে প্রশ্ন
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারের অধীন বৃত্তিমূলক শিক্ষকদের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চালাবে কারিগরি শিক্ষাদপ্তর। যেসব স্কুলে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চলে, সেগুলির প্রধানশিক্ষকরা বৃত্তিমূলক শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং জন্মতারিখের প্রমাণপত্র ১৩ থেকে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে ডিরেক্টরেট অব ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (ডিভিইটি) আই-ওএসএমএস পোর্টালে জমা করবেন। তবে, এখানেই শেষ হচ্ছে না যাচাই প্রক্রিয়া। পরের পর্বে হবে ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন। এর জন্য ২০ নভেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে সশরীরে বিভিন্ন সরকারি পলিটেকনিকে হাজির হতে হবে শিক্ষকদের।

Advertisement

বৃহস্পতিবার ডিভিইটি থেকে এই নির্দেশ জারির পরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। রাজ্যজুড়ে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষক রয়েছেন। এঁদের বেতন বা ভাতা গড়পড়তা ১০ হাজার টাকার মধ্যে। প্রায় সমস্ত চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকের বেতনবৃদ্ধির অর্ডার জারি হলেও এই শিক্ষকরা তার আওতায় নেই। এমনকি, কেন্দ্র-রাজ্য প্রকল্পের অধীন এনএসকিউএফ শিক্ষকদের ভাতাবৃদ্ধির অর্ডারও জারি হয়েছে। তাই এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে আশা জেগেছে, এবার তাঁদেরও বেতনবৃদ্ধি হতে পারে। তবে, এর বাইরে অসন্তোষও রয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, তাঁরা ২০ বছর ধরে তাঁরা চাকরি করছেন। তাঁদের সমস্ত তথ্যই ডিভিইটি তথা কারিগরি শিক্ষাদপ্তরের কাছে রয়েছে। তাহলে আবার কেন এই দীর্ঘ ভেরিফিকেশন চালানোর প্রয়োজন হল? এতে তাঁদের বেতনবৃদ্ধির প্রক্রিয়াই আরও দীর্ঘায়িত হবে বলে তাঁদের অভিযোগ। অর্থদপ্তরে ফাইল চলে গেলেও অন্তত এবছর তাঁদের আর বেতনবৃদ্ধি হচ্ছে না। 
যদিও আধিকারিকদের বক্তব্য, অনেক বেশি সংখ্যক শিক্ষক হওয়ায় এই ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য নথি দীর্ঘদিন যাচাই করা হয়নি। সেই কারণেই এই উদ্যোগ। খুব মসৃণভাবে সরকারি পলিটেকনিকে ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন হবে। কোন ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষকদের কোথায় যেতে হবে, তা জানানো হয়েছে। ভেরিফিকেশনের সময়সূচিও আগাম জানিয়ে দেওয়া হবে। যদিও, শিক্ষকদের বক্তব্য, আইসিডিএস কর্মী, পার্শ্বশিক্ষক, এসএসকে-এমএসকে শিক্ষাসহায়ক, সম্প্রসারক, সিভিক ভলান্টিয়্যার এমনকি, একই দপ্তরের এনএসকিউএফ শিক্ষকদের বেতনবৃদ্ধি কোনো ভেরিফিকেশন ছাড়াই হয়েছে। তাহলে তাঁরাই কেন ব্যতিক্রম হবেন? তাঁরা আরও যোগ করছেন, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীই বলেছিলেন, এমন কোনো দপ্তর নেই যেখানে বেতনবৃদ্ধি হয়নি। তাহলে তাঁরা কেন বাদ?