নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ক্যান্সার আক্রান্ত তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। সহকর্মীরা মৃতদেহ এনেছেন বাড়িতে। কিন্তু দরজায় তালা লাগিয়ে উধাও দাদা-বউদি। প্রায় ছ’ঘণ্টা বাড়ির বাইরে পড়ে রইল দেহ। শেষে রহড়া থানার পুলিসের সহযোগিতায় মৃতার কয়েকজন বন্ধু শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। বুধবার রাতে এমন অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল খড়দহ পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের রহড়া পূর্বাচলের বাসিন্দারা। পুলিস জানিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম সায়ন্তী দাস (৩৪)। তিনি খড়দহের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের গ্রন্থাগারিক পদে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত সায়ন্তীর বাবা ও মা অনেকদিন আগেই গত হয়েছেন। বেশ কয়েক বছর আগে বড় দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে দাদা ও বৌদির সঙ্গে তিনি থাকতেন। তবে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলায় দাদা ও বউদির সঙ্গে প্রায়শই তাঁর বিবাদ লেগে থাকত। বিবাহিত দিদির সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো ছিল না। বেশ কিছুদিন আগে তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়েছিল। পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি কয়েক মাস আগে বাড়ি ছেড়ে বন্ধু টিনা ওঝার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। টিনাদেবীর বাড়িও খড়দহে। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বন্ধু ও সহকর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাঁর দাদাকে খবর দেওয়া হলেও তাঁরা কেউ হাসপাতালে যাননি। হাসপাতাল থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি বন্ধুর বাড়িতে ফিরেছিলেন। বুধবার বিকেলে ওই বন্ধুর বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর দাদা শান্তনু দাসকে মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা নাগাদ সায়ন্তীর মৃতদেহ নিয়ে বন্ধুরা পূর্বাচলের বাড়িতে গিয়ে দেখেন দরজায় তালা লাগানো। শেষমেশ স্থানীয়দের পরামর্শে মৃতার বন্ধুরা বিষয়টি রহড়া থানায় জানায়। পুলিস মৃতার দাদা ও দিদিকে বার বার ফোন করেও ব্যর্থ হয়। প্রায় ছ’ঘণ্টা পর পুলিসের সহযোগিতায় বাড়ির সামনে থেকে মৃতদেহ পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
প্রতিবেশী প্রশান্ত দাস বলেন, সম্পত্তিগত বিষয় নিয়ে ওদের পরিবারে ঝামেলা ছিল। তা বলে বোনের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে দাদা-বউদি ঘরের দরজা বন্ধ করে বেপাত্তা হয়ে যাবে? ভাবতেই পারছি না।
মৃতার বন্ধু টিনা ওঝা বলেন, সায়ন্তীর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা মৃত্যুর খবর আমরা বার বার ওঁর দাদা ও দিদিকে জানিয়েছি। মৃতদেহ শেষবার বাড়িতে নিয়ে যাবও বলেছিলাম। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে দেখি দরজা বন্ধ। ছ’ঘণ্টা অপেক্ষার পর পুলিসের সহযোগিতায় শেষকৃত্য করেছি। বারাকপুরের ডেপুটি পুলিস কমিশনার (মধ্য) ইন্দ্রবদন ঝা বলেন, মেয়েটির শেষইচ্ছা মতো তাঁর বন্ধুরা মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের লোকেরা দেহ নিতেই চাননি। এমন অমানবিক ঘটনায় আমরাও হতবাক হয়ে গিয়েছি। পরে নিয়ম মেনে ওই তরুণীর দাহকার্য করা হয়েছে।