পাসপোর্টের সঙ্গে আধার বা ভোটার কার্ডের তথ্যে অসঙ্গতি  সৌদি সহ একাধিক দেশের জেলে বন্দি এরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে আধার ও ভোটার কার্ডের বিস্তর গরমিল রয়েছে। বিশেষ করে বয়সের ক্ষেত্রে। পাসপোর্টে বয়স বেশি দেখানো রয়েছে। কিন্তু আধার কার্ডে বয়স অনেক কম। মানব পাচারকারীদের কারসাজিতে সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশে জেলে বন্দি হয়ে রয়েছেন এরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা। মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমানের বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে বিদেশে যান। বাড়তি টাকা রোজগারের জন্য দালাল বা মানব পাচারকারীরা ভুয়ো তথ্য দিয়ে নাবালকদের পাসপোর্ট তৈরি করে দিয়েছে। বিদেশে নাবালকরা কাজ পায় না। সেকারণেই তাদের বয়স বাড়ানো হয়। 

Advertisement

পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে কাজ করেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, কুয়েত, রিয়াধের জেলে বহু শ্রমিক বন্দি হয়ে রয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা আমার কাছে নথি জমা দিয়েছেন। দূতাবাসে তা নিয়ে চিঠি করা হয়েছে। কিন্তু, এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি। পরিযায়ী শ্রমিকরা বলেন, আগে কারও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেদেশের দালালদের টাকা দিয়ে অনেকেই রিয়াধ বা কুয়েতের জেলে ঢুকত। পরে সেদেশের সরকার দূতাবাসে চিঠি করে তাদের ‘পুশব্যাক’ করাত। কিন্তু এখন ভারত সরকার ‘ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশনের’ কাজ করছে। দূতাবাসে যাদের নামে চিঠি আসছে তাদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তখনই ভুল তথ্য চোখে আসছে। 
পরিযায়ী শ্রমিক মহবুল শেখ বলেন, আগে দালালদের টাকা দিলেই পাসপোর্ট তৈরি করে দিত। প্রয়োজনে তারাই নকল আধার কার্ড বা অন্যান্য নথি তৈরি করে জমা দিত। তা যাচাই না করেই অনেকে পাসপোর্ট পেয়ে গিয়েছে। ১৪-১৫ বছরের কিশোরের বয়স পাসপোর্টে ২২ বছর দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, এখন যাচাই করার সময় তথ্যে গরমিল পাওয়া যাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুয়ো পাসপোর্ট নিয়ে তিন মাস আগে থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। দপ্তরের কেউ যুক্ত রয়েছে কি না তা তারা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এক আধিকারিক বলেন, দপ্তরের একাংশ জড়িত না থাকলে এভাবে পাসপোর্ট তৈরি হত না। অনেক বাংলাদেশিকেও এই কায়দায় পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। 
এতদিন সেসব যাচাই করা হত না। কিন্তু, এখন যারা বিদেশে রয়েছে তাদের নথিও যাচাই করা হচ্ছে। তথ্যে অসঙ্গতি দেখা দিলেই পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। এখন পাসপোর্ট দেওয়ার আগে সব নথি একাধিকবার যাচাই করা হচ্ছে। দালালরা নকল নথি দিয়ে নাবালকদের বিদেশে পাঠিয়ে মোটা টাকা লাভ করেছে। কিন্তু শ্রমিকরা এখন সমস্যায় পড়লেও দালালদের দেখা মিলছে না। পরিবারের লোকজন প্রশাসনের দরজায় ঘুরে তাদের ছেলেদের ঘরে ফেরানোর চেষ্টা করছেন।