Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দক্ষিণ দমদমের হাসপাতালে অব্যবস্থা: কেউ বাড়ি বসে মাইনে পান, কেউ বানাচ্ছেন রিল

দক্ষিণ দমদমের হাসপাতালে অব্যবস্থা: কেউ বাড়ি বসে মাইনে পান, কেউ বানাচ্ছেন রিল
  • ১৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ১২ বেডের তিনতলা মাতৃসদন হাসপাতাল। দুই স্থায়ী চিকিৎসক ছাড়াও ওপিডি এবং ইন্ডোর মিলিয়ে ৩২ জন অস্থায়ী চিকিৎসক রয়েছেন। নার্স, অ্যাটেনডেন্ট, আয়া সহ নানান দপ্তরে কর্মীর সংখ্যা শতাধিক। অথচ, আধুনিক পরিকাঠামো যুক্ত দক্ষিণ দমদমের মাতৃসদনে গড়ে প্রত্যেক মাসে রোগী ভর্তি হয় ১০ জন। কোনও কর্মী হাসপাতালে মাসের পর মাস কাজে না এসেও মাইনে তোলেন। কেউ নিয়মরক্ষায় হাজিরা খাতায় সই করতে এসে ইমার্জেন্সিতে বসে রিলস বানান। আর সাধারণ মানুষ পরিষেবা না পেয়ে ফিরে যান। পুরসভার তরফে অব্যবস্থার কথা স্বীকার করে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণ রোডের জীবন সরকার মোড়ে মাতৃসদন হাসপাতাল রয়েছে। ১৯৯২ সালের ১৯ নভেম্বর পলিক্লিনিক হিসেবে পথচলা শুরু করেছিল এটি। ট্রাস্টি বোর্ড পরিচালিত এই পলিক্লিনিক ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ দমদম পুরসভা নিজেদের হাতে নেয়। এরপর কয়েক কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয় ১২ বেডের মাতৃসদন হাসপাতাল। এমনকী, চার বেডের আইসিইউ ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছিল। ঝাঁ চকচকে অপারেশন থিয়েটারে নামমাত্র টাকায় এখনও সিজার, ওভারির সিস্ট সহ মহিলাদের নানান সমস্যা ও অর্থোপেডিক বিভাগের নানান অপারেশন করা হয়। এছাড়া চোখের ফেকো ও মাইক্রো সার্জারির ব্যবস্থা রয়েছে। ডায়াগনস্টিক ইউনিটে বিভিন্ন ধরনের রক্ত পরীক্ষা, এন্ডোস্কোপি, কোলোনোস্কোপি, ইসিজি, ইকো, ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থাও রয়েছে। এই বিশাল পরিকাঠামো পরিচালনার জন্য কর্মীরও কোনও অভাব নেই। চিকিৎসক ছাড়া সব মিলিয়ে কর্মী রয়েছে প্রায় ১০২ জন। 
কিন্তু পরিষেবার দিকে নজর দিলেই হাসপাতালের ভয়াবহ চিত্র নজরে আসবে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে সিজার হয়েছিল ২১ জনের, অন্যান্য গাইনো অপারেশন হয়েছিল আটজনের, চোখের অপারেশন ১৩ জনের। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তা আরও কমে সিজার হয় ছয়জনের, অন্যান্য গাইনো অপারেশন পাঁচজনের, চোখের অপারেশন ১২ জনের। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্ডোরে ভর্তি হয়েছিলেন ৯ জন রোগী, জানুয়ারি মাসে ১৬ জন। ২০২৪ সালের কোনও মাসে ১০ জন, আবার কোনও মাসে পাঁচজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। অভিযোগ, এখানে চিকিৎসকদের অনেকেই রোগীকে দেখে অপারেশনের জন্য নিজেদের ও পরিচিতদের নার্সিংহোমে রোগী পাঠান। হাসপাতালের এক চিকিৎসক সারা বছরে ১০ জন রোগীও দেখেন না। তাঁকে এক কাউন্সিলারের আশপাশে ও দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ। কাউন্সিলারের অনুগামী হিসেবে পরিচিত চার কর্মী মাসের পর মাস মাইনে নিলেও হাসপাতালে আসেন না। আবার, চক্ষুলজ্জা থাকায় কিছু কর্মী মাসে চারদিন এসে সারা মাসের সই করে দিয়ে যান। এক মহিলা কর্মী আবার ইমার্জেন্সি ও ইন্ডোরে বসে রিলস তৈরি করে সমাজমাধ্যমে ছাড়েন। সেইসব রিলস আবার ভাইরালও হয়। অনেকে হাসপাতাল বসে হিটারে রান্না করে দিব্য খাওয়া দাওয়া সারেন। স্থানীয় কাউন্সিলার প্রদীপ মজুমদার বলেন, হাসপাতালে মা সারদা গ্রিন লেক করেছিলাম। আজ সবই প্রায় বন্ধ হয়েছে। বহুবার অব্যবস্থা নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে বলেছি। স্বাস্থ্যদপ্তরের সিআইসি সঞ্জয় দাস বলেন, বহু অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। বোর্ড মিটিংয়ে এসব নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। মানুষের স্বার্থে পরিষেবা সচল করতে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ