ব্যবসায়ীকে খুন করে রেললাইনে দেহ ফেলল দুষ্কৃতীরা
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: মার্বেল ব্যবসায়ীকে খুন করে রেললাইনে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ  উঠেছে। অনিল সিং (২৬) নামে ওই ব্যবসায়ীকে রেল লাইনের উপর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর মাথায় আঘাত ছিল। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ওই ব্যবসায়ীর এক বন্ধু। এমনকি, অনিলের মোটরবাইকটিরও খোঁজ নেই। অন্য কোথাও খুন করে তাঁর দেহ এখানে এনে ফেলা হয়েছে, নাকি কেউ তাঁকে ট্রেন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখছে ব্যান্ডেল জিআরপি। এই ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।

Advertisement

রেল পুলিশ সূত্রে খবর, চুঁচুড়া এলাকায় অনিলবাবুর মার্বেলের দোকান রয়েছে। ৬ অক্টোবর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তারপর আর ফিরে আসেননি। পরে চুঁচুড়া স্টেশন থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে জিআরপি। প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলার রুজু হয়। পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে রেল পুলিশের থানায় আসেন। দাদা সুনীল সিং জানিয়েছেন, পুলিশের তরফে ছবি দেখানো হলে তিনি ভাইয়ের দেহ চিহ্নিত করেন। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। দেহটি লাইনের উপর টানটান করে শোয়ানো ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম, পোস্টে ধাক্কা খেয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে অনিল পড়ে গিয়েছে। তাঁর পকেট থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার হলেও কোনো সুইসাইড নোট মেলেনি।
পরিবারের সন্দেহ তৈরি হয় ঘটনার পর অনিলের বন্ধু পিন্টু এলাকাছাড়া হওয়ার পর। পিন্টুর এক আত্মীয় অনিলের পরিবারকে এসে জানান, বাইকের চাবি তাঁদের কাছে রয়েছে। সেটি নেওয়ার কথা বলেন। ব্যবসায়ীর পরিবার জানতে চায়, পিন্টু কোথায়? তাকে সামনে নিয়ে আসুন। গোটা ঘটনা একমাত্র সেই হয়ত জানে। কিন্তু পিন্টুকে পাওয়া যায়নি। এরপরই মৃতের পরিবার পিন্টুর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করে। ব্যান্ডেল জিআরপি ২৪ অক্টোবর খুনের মামলা রুজু করে। 
তদন্তে নেমে তারা এলাকায় গিয়ে দেখে, পিন্টুর ঘরে তালা। এমনকি, বাইকটিও নেই। প্রাথমিকভাবে রেল পুলিশ জানতে পেরেছে, ৬ অক্টোবর সারাদিন পিন্টুর সঙ্গেই ছিলেন অনিল সিং। তারপর থেকে আর তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। রেল পুলিশ প্রথমে পোস্টে ধাক্কা খেয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করেছিল। কিন্তু ওই যুবক বেপাত্তা হয়ে যাওয়ায় তদন্ত অন্যদিকে মোড় নিয়েছে।  তদন্তকারীদের ধারণা, হয় অন্য কোথাও খুন করে অনিলের দেহ রেললাইনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। যাতে মনে হয় ট্রেনের ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। নাহয় চলন্ত ট্রেন থেকে তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সব দিকই খোলা রেখেছেন তদন্তকারীরা। চুঁচুড়া স্টেশনে ওইদিনের যাবতীয় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে রেল পুলিশ।