সংবাদদাতা, বজবজ: এতদিন যারা তৃণমূলের নাম করে বিভিন্ন জায়গায় তোলাবাজি, দাদাগিরি চালিয়েছে, সরকার বদল হতেই তাদের একাংশ বিজেপিতে ভিড়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ, মহেশতলা, পুজালি, সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর এমনকি, সোনারপুরে পদ্ম শিবিরের পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে পড়েছে তারা। এই সংক্রান্ত ভুরি ভুরি অভিযোগ আসছে পদ্ম শিবিরের কাছে। নোদাখালি থানা এলাকার রায়পুরে বিজেপির পতাকা হাতে কেন্দ্রীয় সরকারের জল মিশন প্রকল্পের ভিতরে ঢুকে কিছু লোক নিয়োগের জন্য চাপ দিতে শুরু করেছে। তারা নিজেদের বিজেপি নেতা ডাঃ তরুণ আদকের অনুগামী বলে দাবি করেছে। যদিও এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে নোদাখালি থানা। তবে এ ধরনের হামলা ও দাদাগিরির ঘটনায় সব মিলিয়ে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, ধৃতরা এখন বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে দাদাগিরি করলেও তারা সকলেই ভোট গণনার আগে পর্যন্ত তৃণমূল ছিল। তরুণ আদক বলেছেন, আমার নাম করে কেউ দাদাগিরি করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এসব বরদাস্ত করা হবে না। বজবজ থানা এলাকার একাধিক জায়গায় তৃণমূলের দলীয় অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুইতা, বজবজ ফাঁড়ি এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, তৃণমূলের যতগুলি অফিসে তালা ঝোলানো হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু কেউ এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেননি। বুইতা এবং বজবজ ফাঁড়ির ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১৯৬৩ সাল থেকে সোনারপুরে বেসরকারি উদ্যোগে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের টাকায় নরেন্দ্রপুর গ্রিনপার্ক শিক্ষাসদন নামে একটি প্রাথমিক স্কুল চালিয়ে আসছেন। অভিযোগ, সেই স্কুলে ঢুকে প্রধান শিক্ষক সৌমিত্র করকে হুমকি দিয়েছে বিজেপি পতাকাধারী কয়েকজন যুবক। তাদের দাবি, স্কুলের চাবি তাদের হাতে দিতে হবে। বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কালীতলা আশুতি থানা এলাকার নওয়াবাদ খালপারে ছোট কাছারি মন্দির সংলগ্ন একটি আবাসনে এদিন জোর করে ঢুকে পড়ে একদল যুবক। তাদের হাতে গেরুয়া পতাকা ছিল। তারা জেসিবি নিয়ে এসে জমি দখলের চেষ্টা করে। কালীতলা আশুতি থানা খবর পেয়ে তাদের ধাওয়া করলে ওই যুবকরা পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা কোনো দলের লোক নয়, সকলেই দুষ্কৃতী। বিষ্ণুপুরের গাববেড়িয়ায় ভাণ্ডারিয়া কাস্তেকুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের উপপ্রধান অধীর নস্করের ভাইয়ের দোকান এবং গাববেড়িয়া মোড়ে তৃণমূলের অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় কেউ।
বিজেপির জেলা নেতা সুফল ঘাটু বিষয়টি জানার পর দলের লোকজন নিয়ে সেখানে গিয়ে গিয়ে তালা খুলে দেন। তিনি বলেন, দুষ্কৃতীরা এসব করছে। একই কথা বলেছেন বিজেপির টিকিটে জেতা সোনারপুর উত্তরের প্রার্থী দেবাশিস ধর। তিনি সোনারপুর রাজপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে বেদখল হওয়া পার্টি অফিসের তালা খুলে তৃণমূল কর্মীদের হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি বিজেপির পতাকাও খুলে দেন তিনি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সোমা ঘোষ, রাজ্য মহিলা মোর্চার সম্পাদিকা সবিতা চৌধুরী এবং রাজ্যনেতা হরিকৃষ্ণ দত্ত বলেন, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের কেউ জড়িত নন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছে প্রতিটি থানাকে।