লখনউ: উদ্বোধনের পর কেটেছে মাত্র দু’টি বছর। এরমধ্যেই অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দানের টাকা ও অলঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগে সরগরম উত্তরপ্রদেশ। চাপে পড়ে শনিবার এই নিয়ে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের কথা ঘোষণা করেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। সবচেয়ে আশ্চর্যের হল এই সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনো এফআইআর দায়ের হয়নি। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এফআইআর ছাড়া কীভাবে দোষীদের শাস্তি দেওয়া যাবে। সোমবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশের প্রাক্তন ডিজি অরবিন্দ জৈনের অবশ্য দাবি, সিটের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার এফআইআর দায়ের করতেই পারে।
শনিবার লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থের নেতৃত্বে সিট গঠনের কথা ঘোষণা করেছে যোগী সরকার। প্রণামীর অর্থ তছরুপের অভিযোগ সহ আর্থিক পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে সিটকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। পনেরো দিনের মধ্যে এই নিয়ে সিট রিপোর্ট দিতে পারে বলে খবর। সোমবার তদন্ত করতে মন্দিরে যান সিটের সদস্যরা। ইতিমধ্যে প্রণামীর অর্থ তছরুপ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)। সূত্রের খবর, এসওজির প্রাথমিক তদন্তের তালিকায় রয়েছেন প্রণামীর অর্থ গণনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং অন্যানা টেকনিক্যাল খুঁটিনাটি এবং তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করেছে এসওজি। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে মন্দির পরিচলানার সঙ্গে যুক্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে সুজাগঞ্জের বাসিন্দা লব কুশ নামে এক ব্যক্তি। বেশ কিছু নগদ উদ্ধার হয়েছে বলেও এক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এরমধ্যে বিক্রম তেওয়ারি নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা থানায় অভিযোগ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। সোমবার তিনি বলেন, ‘মন্দিরের দানের অর্থ চুরি করা হচ্ছে জেনে অবাক হয়ে গিয়েছি। এজন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি। তবে তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।’