


কাজল মণ্ডল, ইসলামপুর: বিজেপির টিকিট না পেয়ে দলবদল করা সংখ্যালঘু নেতাই এখন গোয়ালপোখরে গেরুয়া শিবির এবং কংগ্রেসের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছেন। কার্যত প্রধান দুই বিরোধী নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যায় জর্জরিত। এর ফলে তৃণমূল প্রার্থী অনেকটাই এগিয়ে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের আলোচনা, বিজেপি ও কংগ্রেসের এই অবস্থার কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী গোলাম সরওয়ার। তিনি বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূলের প্রার্থী গোলাম রব্বানির নিজের ভাই। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। ৩২ হাজার ভোট পেয়ে হেরে যান। সেসময় থেকেই ২০২৬ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে থাকেন সরওয়ার। বিধায়ক তথা মন্ত্রী দাদার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে সরব ছিলেন। এভাবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির সংখ্যালঘু মুখ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু এবার দাল তাঁকে টিকিট দেয়নি। সেই ক্ষোভে বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে সরব হয়েছেন। এতে নির্বচনের মুখে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে বিজেপিকে।
অন্যদিকে, বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান করার পর নির্দল প্রার্থী হয়েছেন সরওয়ার। তাঁর সমর্থনে কংগ্রেসরই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী আছে। বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতা কর্মীদের মদতে নির্দল প্রার্থী হয়ে কার্যত গোঁজ প্রার্থী হয়েছেন তিনি। এভাবে গোলাম সরওয়ার কংগ্রেসকেও বেকায়দায় ফেলেছেন। কার্যত এক গোলাম সরওয়ার প্রধান দু’টি বিরোধী দলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছেন। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গোলাম সরওয়ার দলত্যাগ করায় কোনো প্রভাব পড়বে না। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, চাকুলিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা কংগ্রেস নেতা আলি ইমরান রমজ ওরফে ভিক্টরের হাত ধরে কংগ্রেস যোগদান করেছেন সরওয়ার। এবার তিনি নির্দলে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করছেন। গোলাম সরওয়ার অবশ্য বলেন, ভিক্টর আমাকে সমর্থন করেছেন। আমি জয়ী হব।
সরওয়ার কি বিজেপির ভোট কাটবে না কি কংগ্রেসের ভোট কাটবে? এই প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি নেতা আনন্দ মণ্ডল বলেন, বিজেপির ভোটাররা কি পাগল যে সরওয়ারে ভোট দেবে। তিনি যে দলই করুন, বিজেপির ভোট কাটতে পারবেন না।
কংগ্রেস প্রার্থী মাসুদ মহম্মদ নাসিম এহসান বলেন, ভিক্টর ও নির্দল প্রার্থীর বিষয়ে দলকে জানান হয়েছে। দল ব্যবস্থা নেবে। গোলাম রব্বানি ১৫ বছর এলাকার উন্নয়ন করতে পারেননি। তাঁর বিরুদ্ধে মানুষ আমাকে ভোট দেবে।
বিরোধীদের এই দ্বন্দ্বের মধ্যে দাপিয়ে প্রচার করছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী। তিন বার বিধায়ক থাকার সুবাদে অনেটাই এগিয়ে আছেন তিনি। এদিন সাহাপুরে প্রচারের ফাঁকে রব্বানি সাহেব সাংবাদিকদের বলেন, আমি ১২ মাস ২৪ ঘণ্টা মানুষের জন্য কাজ করি। আমার ভাই এর আগেও বিজেপি প্রার্থী হয়ে আমার বিরুদ্ধে লড়েছে। এবার নির্দল হয়েও লড়তে পারে। কিন্তু মানুষ জবাব দেবে।