নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মাটিগাড়ায় নাবালক খুনের মূল অভিযুক্ত রাজ পাসোয়ানকে মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বুধবার ধৃতকে শিলিগুড়ি আদালতে তোলার সময়ে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযুক্তকে রীতিমতো পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে মৃতের পরিজন সহ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। গোটা পরিস্থিতি সামলে কোনো মতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় আদালতের লকআপে। পরে শিলিগুড়ি থানা থেকে বিশাল বাহিনী ও র্যাফ এসে বিক্ষোভকারীর আদালতের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়। পরে ঘুরপথে আদালত কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় মূল অভিযুক্তকে। তবে নাবালক খুনে অভিযুক্ত যুবককে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে দুপুরে আদালত চত্বরে স্লোগান দিতে থাকেন নাবালকের পরিবারের সদস্য সহ আত্মীয় পরিজনরা। বিচারক ধৃতকে পাঁচ দিনের জন্য পুলিশ হেপাজতে পাঠান।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, নাবালক খুনের ঘটনায় আমরা দুই অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করেছি। আদালতের নির্দেশে মূল অভিযুক্ত রাজ পাসোয়ানকে হেপাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সুকনা এলাকার চা বাগানের পিছনের একটি জঙ্গলে খুন করা হয় শিমূলতলার বাসিন্দা বছর পনেরোর শুভজিৎ মোদককে। ত্রিকোণ প্রেমের কারণেই ওই খুনের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে। নৃশংস ওই কাজে মূল অভিযুক্ত রাজ পাসোয়ানকে সাহায্য করেছিল শুভজিতের এক বন্ধু। সেও নাবালক। তাকে আগেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া বয়না অনুযায়ী দেহ উদ্ধার হয় জঙ্গলে। তবে ঘটনার পর গা ঢাকা দেয় রাজ। প্রথমে সে মাথাভাঙার এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিল। তবে সেখানে থাকেনি। ফের শিলিগুড়িতে ফিরে আসে। এদিকে, শুভজিতের নাবালক বন্ধু গ্রেপ্তার হতেই মঙ্গলবার আদালতে গিয়ে তার নামে কোনো মামলা হয়েছে কি না খোঁজ নেয় রাজ। অবস্থা বেগতিক বুঝে এনজেপি স্টেশন হয়ে দেশের অন্যপ্রান্তে পালানোর ছক কষেছিল। তবে তার আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে সে। অভিযুক্ত ধরা পড়েছে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মৃতের পরিজন ও প্রতিবেশীরা এদিন আদালতে জড়ো হন এবং বিক্ষোভ দেখান। • শিলিগুড়ি আদালতে তুলকালাম। বুধবার তোলা নিজস্ব চিত্র।