নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইনস্টাগ্রামে বন্ধুত্ব হওয়ার পর কসবার নাবালিকাকে মালদহে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড়ে দিয়ে তাকে ক্ষতবিক্ষত করে অভিযুক্ত। এমনকি, সিগারেটের ছেঁকা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গোটা ঘটনা সে ভিডিয়ো করে রাখে। মোবাইলের সূত্র ধরে অভিযুক্ত শেখ ইমরান ওরফে পাপ্পুকে বুধবার গ্রেপ্তার করেছে কসবা থানার পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ওই নাবালিকাকে। তার মেডিকো লিগ্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কসবার বাসিন্দা ওই নাবালিকার সঙ্গে মাস তিনেক আগে ইনস্টাগ্রামে পরিচয় হয় ইমরানের। বন্ধুত্বের খাতিরে মোবাইল নম্বর আদানপ্রদান করে দু’জন। অল্পদিনের মধ্যেই তাদের বন্ধুত্ব গাঢ় হয়। তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। ইমরান তাকে বিয়ে করবে বলে জানায়। ওই নাবালিকা প্রতিদিন মোবাইলে কথা বলত অভিযুক্তের সঙ্গে। হোয়াটসঅ্যাপেও চলত মেসেজ আদানপ্রদান। অভিযুক্ত জানায়, সে ২৫ অক্টোবর কলকাতায় আসছে। তখন দেখা করবে। ইমরান কলকাতায় এসে তাকে ফোন করে কসবায় আসতে বলে। নাবালিকা বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি বলে ওইদিন বিকালে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু তারপর আর ফিরে আসেনি। রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় মা মেয়ের মোবাইলে ফোন করলে সেটি সুইচড অফ পাওয়া যায়। এরপর তিনি কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের কেস রুজু করে।
তদন্তে নেমে ওই নাবালিকার মোবাইলের কল লিস্ট বের করে পুলিশ। তাতে দেখা যায়, একটি ছেলের সঙ্গে তার নিয়মিত কথা হত। পাশাপাশি মেসেজ আদানপ্রদানও হত। মোবাইলের সাবস্ক্রাইবার আইডি বের করে তরুণের পরিচয় বের করে পুলিশ। ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল দেখে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। টাওয়ার লোকেশনের সূত্রে জানা যায়, তার অবস্থান মালদহে। কসবা এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ জানতে পারে, নাবালিকাকে গাড়িতে তুলছে অভিযুক্ত। হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নেওয়া হয়। শিয়ালদহে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে জানা যায়, উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে উঠছে দু’জন। সব তথ্যপ্রমাণ হাতে নিয়ে তদন্তকারীরা মালদহে যে বাড়িতে নাবালিকাকে আটকে রাখা হয়েছিল, সেখানে যান বুধবার। উদ্ধার করা হয় নাবালিকাকে। দেখা যায়, সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। পরনের জামাকাপড় অবিন্যস্ত। তার ঘাড়, বুক, হাত সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড়ের দাগ রয়েছে। নাবালিকা পুলিশকে জানায়, তাকে কসবা থেকে গাড়িতে তুলে ঢাকুরিয়ায় নিয়ে আসে অভিযুক্ত। সেখান থেকে ট্রেনে করে শিয়ালদহ আসে। এরপর ট্রেনে করে মালদহে পৌঁছায়। সেখান থেকে ইমরানের মামার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে আটকে রেখে তাকে লাগাতার ধর্ষণ করা হয়েছে। সেসব ভিডিয়ো করেছে ইমরান। বাধা দিতে গেলে তাকে অজস্রবার কামড়ে দিয়েছে সে। সিগারেটের ছেঁকাও দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার কথা জানাজানি হলে ওই ভিডিয়ো ভাইরাল করে দেবে শাসিয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবী সাজ্জাদ আলি খান বলেন, নাবালিকাকে যেভাবে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে, তা অবর্ণনীয়। সওয়াল শেষে অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে পাঠায় আদালত।



