


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফুটপাতেই বসবাস। সেখানেই খেলছিল বছর সাতেকের শিশুকন্যা গুড়িয়া। তখনই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা! বাতিস্তম্ভ থেকে লাইট ভেঙে সোজা পড়ে তার মাথায়। সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে হেস্টিংস এলাকায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর বাতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গুড়িয়ার পরিবার ও স্থানীয় লোকজন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হেস্টিংস এলাকায় ফুটপাতেই দীর্ঘদিন ধরে বসবাস গুড়িয়ার পরিবারের। প্রায় প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শিশুটি অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে বাতিস্তম্ভের নীচে খেলাধুলো করত। তবে সোমবার একাই খেলছিল সে। আচমকা তার মাথার উপর ভেঙে পড়ে লাইট। সে আর্তনাদ করলেও কেউ শুনতে পায়নি। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে একরত্তির নিথর দেহ। কিছুক্ষণ পরে সেই দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। ততক্ষণে রক্তে ভেসে গিয়েছে ফুটপাত। ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে লাইটটি। মেয়েকে ওই অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে হেস্টিংস থানার পুলিশ। তারাই ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় জোরালো আঘাতের ফলেই গুড়িয়ার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার পর বাতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সরব হয়েছে নাবালিকার পরিবার ও স্থানীয় লোকজন। তাঁদের অভিযোগ, বাতিস্তম্ভের থাকা লাইটে তিনটি করে নাটবল্টু থাকে। কিন্তু প্রতিটি লাইটে এখন একটি করে নাটবল্টু রয়েছে। এ বিষয়ে পুরসভার তরফে কোনো নজরদারি চালানো হয় না বলে অভিযোগ তাঁদের। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে আসেন কলকাতা পুরসভার কর্মীরা। তাঁরা বাতিস্তম্ভের উপরে থাকা অন্য লাইটগুলি পরীক্ষা করেন। দেখা যায়, সেগুলির অবস্থাও খারাপ। স্থানীয়দের অভিযোগই সত্যি। একটি করে রয়েছে নাটবল্টু। পুরসভার অনুমান, স্থানীয় দুষ্কৃতীরাই সেগুলি খুলে নিয়েছে। তবে কে বা কারা এগুলি খুলে নিয়ে গেল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে নাবালিকার পরিবারের হাতে চার লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন বিধায়ক তাপস রায় ও ইন্দ্রনীল খাঁ।