নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: এতদিন কোন দল করেছ? ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবিরে রাস্তা খারাপের অভিযোগ জানাতেই, চড়া সুরে স্থানীয় গ্রামবাসীদের এমনটাই প্রশ্ন করলেন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। বুধবার বিকেলের দিকে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত চরশম্ভুনগর এলাকায় মন্ত্রী তথা বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। সরকারি কর্মসূচিতে প্রকল্প বাছাই নিয়ে বিবাদের কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁরা শিবিরে এসে সম্মিলিতভাবে ওই এলাকার একটি রাস্তা সংস্কারের প্রকল্প নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মন্ত্রী গিয়ে ওই প্রকল্প নিয়ে আপত্তি জানান। যা নিয়েই গ্রামবাসীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মন্ত্রী।
পূর্বসূচি অনুযায়ী বুধবার সকালে কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের রুইপুকুর পঞ্চায়েতের চরশম্ভুনগর এলাকার বিবেকানন্দ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবির বসেছিল। গ্রামের লোকজন ওই শিবিরে এসেছিলেন। গ্রামবাসীরা তাঁদের এলাকার সমস্যার কথা জানান। নিয়ম অনুযায়ী, যে প্রকল্পটি আগে দরকার এবং তাতে অধিকাংশের সমর্থন থাকলে সেই কাজটি অগ্রাধিকার পাবে। সেইমতো শিবির শেষে কাজ চূড়ান্ত হওয়ার পর তার তালিকা শিবিরের বাইরে টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পরই ওই এলাকায় এসে উপস্থিত হন মন্ত্রী তথা কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিধায়ক উজ্জ্বলবাবু এবং কৃষ্ণনগর-১ এর দক্ষিণ বিধানসভার তৃণমূল ব্লক সভাপতি স্বপন ঘোষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কিছু প্রকল্প জমা দেওয়া নিয়ে মন্ত্রী আপত্তি জানান। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মন্ত্রীর বাকবিতণ্ডা হয়। সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও ‘বর্তমান’ সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি।
ওই ভিডিওতে স্থানীয় বাসিন্দাকে বলতে দেখা যায় যে এতদিন ধরে আমাদের গ্রামের রাস্তাটা খারাপ। অথচ কারও চোখে পড়েনি। আজকে শিবিরে অভিযোগ জানাতেই লোকের চোখে পড়ছে। তখন মন্ত্রী তাঁকে প্রশ্ন করেন, এতদিন কোন দল করেছ? সেই প্রশ্ন করতেই এলাকার লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। মন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। এব্যাপারে মন্ত্রীকে ফোন করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আনন্দ প্রামাণিক বলেন, আমাদের এলাকায় বুধবার ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবির বসেছিল। আমরা সেখানে যাই। কাজ নির্ধারণ হওয়ার পর আমরা তালিকার ছবি তুলে নিয়ে যাই। কিছুক্ষণ পর মন্ত্রী এসে কাজ নিয়ে আপত্তি জানান। আমরা তাঁকে বলি প্রশাসনের লোকজনের কথা মতোই আমরা কাজের প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু, উনি উল্টে আমরা কোন দল করি তা জানতে চান।
এপ্রসঙ্গে কৃষ্ণনগর-১ এর দক্ষিণ বিধানসভার ব্লক সভাপতি বলেন, কোনও সমস্যা হয়নি। রুইপুকুর এলাকা বিভিন্ন জায়গায় জল উঠে গিয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি মেনেই এলাকায় আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে মন্ত্রী গিয়েছিলেন। স্থানীয়রা তিনটে বুথের দশ লক্ষ টাকা মিলিয়ে একটি বুথের রাস্তা করতে চান। মন্ত্রী তাতে আপত্তি জানান। একটা বুথের টাকা দিয়ে সেই বুথেরই কাজ হবে। রাস্তাটি ৩০০ মিটার দীর্ঘ। মন্ত্রী সেই রাস্তা করে দেবেন বলেছেন। - নিজস্ব চিত্র