নয়াদিল্লি: বিতর্কিত ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) আগামী ১৭ জুলাই তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করবে। ওই বিল অনুযায়ী, কোনো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে যদি প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রী যদি টানা ৩০ দিন গ্রেপ্তার বা আটক অবস্থায় থাকেন, তাহলে তিনি সরাসরি পদচ্যুত হবেন। বিলের এই ধারাটি নিয়ে বহু বিতর্ক থাকলেও রিপোর্টে সম্ভবত তা বহাল রাখা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে যাতে এই আইনের অপব্যবহার হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রবণতা ঠেকাতে বেশ কিছু সতর্কতামূলক পর্যবেক্ষণ জেপিসি যুক্ত করতে পারে বলে সূত্রের খবর।
২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সেখানেই এই বিলটি অনুমোদনের জন্য পেশ হতে পারে। গত বছরের আগস্টে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রথম বিলটি পেশ করেন। এরপরই বিলটি পরীক্ষার জন্য সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গির নেতৃত্বাধীন ৩১ সদস্যের যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। যদিও কংগ্রেস সহ বিরোধী জোট এই কমিটি বয়কট করেছে। বিরোধীদের বক্তব্য, শাসক জোট এনডিএ তাদের আপত্তির বিষয়টিকে কোনোমতেই গুরুত্ব দেবে না। বিরোধীদের আরও অভিযোগ, প্রস্তাবিত আইনের বিধানগুলি অগণতান্ত্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। এছাড়া স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিরও পরিপন্থী। কারণ, এতে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরিবর্তে কেবল হেপাজতে থাকার জন্যই শাস্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। পালটা সরকার পক্ষের দাবি, ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত তিনবার জামিন চাওয়ার সময় পাওয়া যাবে। তাই এতে স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি লঙ্ঘন হয়নি। তবে, এই আইনের যাতে অপব্যবহার না হয়, তার জন্য সংস্থান থাকাটাও জরুরি বলে বিজেপির একাধিক জোটসঙ্গী জানিয়েছে।