নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: জল-যন্ত্রণা থেকে মুক্তির প্রহর গুনছে হাওড়া ও হুগলির বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ। কোথাও রাস্তায় হাঁটুসমান জল, কোথাও জল ঢুকেছে ঘরে। কোথাও বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার হাওড়ার জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করলেন পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী তথা উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাই। দু’দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে বেলগাছিয়া, দাশনগর, লিলুয়া, টিকিয়াপাড়া, সালকিয়া, ঘুসুড়ি-সহ উত্তর হাওড়া ও শিবপুরের একাধিক এলাকা জলের তলায়।
রান্নাঘরে জল ঢুকে বহু বাড়িতে বন্ধ রান্নাবান্না। দেখা দিয়েছে পানীয় জলের সংকটও। খাদ্যসামগ্রী না থাকায় অনেক পরিবার মুড়ি, চিঁড়ে, বিস্কুট খেয়ে দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ। অনেকে বাড়িতে তালা লাগিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে চলে গিয়েছেন। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, জল নামতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। বৃহস্পতিবারও উত্তর হাওড়ার মৈনাথ পাড়া লেন, ৩, ৬, ৭ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ অংশ জলের তলায় ছিল। পুরসভার তরফে পাম্প চালিয়ে জল বার করার চেষ্টা হলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। এই অবস্থায় এদিন দুপুরে বেনারস রোড সংলগ্ন জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। বিজেপি কর্মীরা বাসিন্দাদের রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার দেন। পুরসভার তরফে পাঠানো হয় পানীয় জলের পাউচ।
উমেশ রাই বলেন, ‘আমরা জলমগ্ন বাসিন্দাদের পাশে থেকে কাজ করছি। চেষ্টা করছি, যাতে হাওড়ার জমা জলের সমস্যা দু’বছরের মধ্যে অনেকটা মিটে যায়। তার জন্য নিকাশি সংস্কারের মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেই কাজ শুরু হবে। আগামী পাঁচ বছর পর হাওড়া শহরে বৃষ্টি হলে আর জল জমবে না।’ হাওড়া পুরসভার কমিশনার তেজস্বী রানা জানান, নীচু এলাকাগুলিতে জল জমেছে। দ্রুত জল নামাতে অতিরিক্ত পাম্প বসানো হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে হুগলিতেও চলছে জল-যন্ত্রণা। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল চত্বর জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তা জলমগ্ন। অভিযোগ, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জন্য এই দুর্ভোগ শহরবাসীর। চুঁচুড়ার কোদালিয়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নলডাঙা রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। স্রোত বয়ে যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে। জল ঢুকছে বাড়িতে। সামান্য বৃষ্টিতে জল জমে সমস্যায় পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের আবেদন জানান বাসিন্দারা।
অন্যদিকে, হুগলির সপ্তগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের চক বাঁশবেড়িয়া ও শঙ্খনগর এলাকায় জল জমে রয়েছে দীর্ঘদিন। বাসিন্দাদের ভোগান্তির শেষ নেই। দু’মাস ধরে রাস্তায় জল জমে আছে। সেই পথেই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। অনেকেই জ্বরে ভুগছে। সমস্যার সমাধানে উদাসীন প্রশাসন। সপ্তগ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ফিরোজ আনসারি বলেন, নিকাশি নালা পরিষ্কার করতে হবে। আগামী দিনে বাসিন্দাদের সমস্যা থাকবে না। নিজস্ব চিত্র