সংবাদদাতা, ডোমকল: থানায় ওসির চেয়ারে বসে রয়েছেন মন্ত্রী! সামনে টেবিলের একপাশে বসে রয়েছেন থানার ওসি। দিন দু’য়েক আগে সাগরপাড়া থানায় তোলা সেই ছবিই এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর সেই ছবিকে ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার দপ্তরের মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষের এই ছবি সামনে আসতেই সমালোচনায় সরব হয়েছে তৃণমূল, কংগ্রেস থেকে শুরু করে নেটিজেনদের একাংশও।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বুধবার সাগরপাড়ায় একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী গৌরী শংকর ঘোষ। বিভিন্ন এলাকার জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি সাগরপাড়া থানাতেও যান। আর সেখানেই তোলা একটি ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ওসির ঘরে ওসি যেখানে বসেন, সেখানে একটি রিভলভিং চেয়ারে বসে রয়েছেন মন্ত্রী। সামনে টেবিলের একধারে একটি কাঠের চেয়ারে বসে আছেন থানার ওসি। একই ঘরে অন্য একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন জেলা বিজেপির এক নেতা। এরপরই ওই ছবিকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। অভিযোগ ওঠে, থানার ওসির চেয়ারে বসেছেন মন্ত্রী! তবে শুধু সাগরপাড়া থানাই নয়, রানিনগর-১ বিডিও অফিস ও ভগবানগোলা বিডিও অফিসে একই ধরনের আরও কয়েকটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও এসব ছবির সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান।
তৃণমূল জমানার মন্ত্রী তথা জেলার প্রাক্তন পুলিশকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, পুলিশের চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে এসে মন্ত্রী হলেও কখনো কোনো থানায় ওসির চেয়ারে বসিনি। একজন মন্ত্রীর এভাবে ওসির চেয়ারে বসা একেবারেই উচিত নয়। ওসি নিজে অনুরোধ করলেও নয়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রেগুলেশন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ীও এর অনুমতি নেই। একমাত্র চেন অব কমান্ড অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরাই ওই চেয়ারে বসতে পারেন। সিবিআই, ইডি, আইবি এমনকি, সেনা আধা সেনার আইপিএস আধিকারিকদেরও সেই অধিকার নেই।
জলঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক বাবর আলি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি দেখেছি। আমার মনে হয় একজন মন্ত্রীর ডেকোরাম মেনে চলা উচিত। এভাবে ওসির চেয়ারে বসে থাকা দৃষ্টিকটূ। রানিনগরের কংগ্রেস বিধায়ক জুলফিকার আলি বলেন, এই বিজেপির সংস্কৃতি। ওরা পুলিশ-প্রশাসনকে নিজেদের বগলদাবা মনে করে। একজন মন্ত্রীর এভাবে ওসির চেয়ারে বসে থাকা শোভনীয় নয়।
যদিও মন্ত্রী গৌরীশংকর বলেন, ওসি আমাকে জানিয়েছিলেন, এটি তাঁর চেয়ার নয়। এমনিতেও তিনি ওই চেয়ারে বসেন না। আমি ঘরে ঢোকার সময় চেয়ারটি আমার সামনেই এনে রাখা হয়েছিল। তবে হ্যাঁ, ওই অবস্থানে বসাটা ঠিক হয়নি। তখন বিষয়টি খেয়াল করিনি। কিন্তু তৃণমূল যেভাবে এটা নিয়ে রাজনীতি করছে, এটাই বলব ওদের আমলে কিন্তু পুলিশ টেবিলের তলায় লুকোত।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ভাইরাল হওয়া ওই রিভলভিং চেয়ারটি ওসির নির্দিষ্ট চেয়ার নয়। ওসি ওই চেয়ারে বসেন না । মন্ত্রী হঠাৎ থানায় আসায় তাঁকে বসার জন্য ওই চেয়ারটি দেওয়া হয়েছিল।