সংবাদদাতা, কান্দি: ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ ক্যাম্প যেন ‘দুয়ারে মন্ত্রী’! বাসিন্দাদের বিভিন্ন দাবি তৎক্ষণাৎ মেটানোর চেষ্টা করলেন পূর্তদপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায়। শনিবার বড়ঞা ব্লকের মারুট প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে এমনই ছবি দেখা যায়। ফলে এদিনের কর্মসূচিকে অনেকেই ‘দুয়ারে মন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করতে থাকেন।
এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ পূর্তমন্ত্রী সেখানে পৌঁছন। স্থানীয় সুন্দরপুর পঞ্চায়েতের দু’টি বুথের বাসিন্দাদের নিয়ে ওই কর্মসূচি চলছিল। মন্ত্রী পৌঁছতেই সেখানে ব্যাপক ভিড় হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মন্ত্রীর ছবি তোলার জন্য মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সেখানে পূর্তমন্ত্রী ছাড়াও হাজির ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক চিরন্তন প্রামাণিক, কান্দি মহকুমা শাসক উৎকর্ষ সিং প্রমুখ।
এদিন মন্ত্রী প্রথমেই কর্মসূচির তাৎপর্য ব্যাখা করেন। এরপর মাইক্রোফোন ধরে বাসিন্দাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। প্রথমেই স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা মারুট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্যার কথা বলেন। তাঁরা বলেন, স্কুলের সামনে দিয়ে ব্যস্ততম ফরাক্কা-হলদিয়া বাদশাহি সড়ক চলে গিয়েছে। তাই স্কুলের সামনে স্পিড ব্রেকারের ব্যবস্থা করা হলে ভালো হয়। মন্ত্রী তৎক্ষণাৎ পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের ফোন করে আজ, রবিবারের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করার নির্দেশ দেন। এছাড়া, অনেকেই এলাকার রাস্তার সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। মন্ত্রী তাঁদের সমস্যাগুলি নিজে লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
এদিন মন্ত্রীকে ঢাকের বাজনা ও আদিবাসী নৃত্যের মাধ্যমে মঞ্চে আহ্বান করা হয়েছিল। মন্ত্রীর সামনে ঢাকিরা ভাতা চালুর দাবি করেন। মন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চে হাজির কান্দি মহকুমা শাসকের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। এভাবেই ঘণ্টাখানেক ধরে পূর্তমন্ত্রী বাসিন্দাদের অভাব-অভিযোগ মেটানোর চেষ্টা করেন। তা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ‘দুয়ারে মন্ত্রী এসেছেন’ বলে মন্তব্য করতে থাকেন। মারুট গ্রামের সন্ন্যাসী মণ্ডল বলেন, অনেক মন্ত্রীকে দেখেছি, কাছেই যেতে দেন না। ইনি তো আমাদের সমস্যার কথা শুনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বললেন।
এদিন পূর্তমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের প্রকল্প দেশের কোনও রাজ্য তৈরি করতে পারেনি। এখানে মানুষ তার অধিকার প্রয়োগ করছে। নিজের মতামত দিচ্ছে। মানুষ নিজের অধিকারকে বুঝেছে, এটাই বাস্তব। আমরাও সবাই মিলে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।