নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সতর্কবার্তা ছিল আগে থেকেই। প্রশাসনিক জটিলতা ও আইনি টানাপোড়েনে আটকে ছিল সিদ্ধান্ত। রাজ্যে পালাবদলের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল নতুন সরকার ও প্রশাসন। বনগাঁর যশোর রোডের ধারে থাকা প্রায় ৫০০টি মৃত ও ‘বিপজ্জনক’ গাছ কাটার প্রক্রিয়া শুরু করল প্রশাসন। প্রথম দফায় ১১১টি গাছ কাটার টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু হবে। শুক্রবার এমনই ঘোষণা করলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া। উল্লেখ্য, ৫ জুলাই বনগাঁর সিকদারপল্লির বাসিন্দা বাপন বিশ্বাস বাইকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। আচমকা যশোর রোডের ধারে গাছের ডাল তাঁর উপর ভেঙে পড়ে। মৃত্যু হয় তাঁর।
এদিন বাপনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের হাতে ৪ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন খাদ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে মন্ত্রী ওই ঘোষণা করেন। জানা গিয়েছে, যশোর রোডের দু’ধারে শিরীষসহ অসংখ্য প্রাচীন গাছ রয়েছে। সময়ের নিয়মে অনেক গাছই মৃত বা ভিতরে ভিতরে দুর্বল হয়েছে। গত কয়েক বছরে এসব গাছ বা গাছের ডাল ভেঙে একাধিক প্রাণহানি, জখমের ঘটনা ঘটেছে। তারপরও স্থায়ী সমাধানের পথে এগতে পারেনি প্রশাসন। একসময় রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরিবেশপ্রেমীদের আন্দোলন ও আদালতে মামলার কারণে সেই পরিকল্পনা থমকে যায়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁ শহর এলাকায় মোট ৫০০টি মৃত ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ গাছ চিহ্নিত হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১১১টি গাছ কাটার জন্য টেন্ডার হয়েছে। বাকি ৩৮৯টি গাছও চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফার টেন্ডার সম্পন্ন হলেই সেগুলিও কাটা হবে। এদিন খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ ও বনদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পর প্রথম পর্যায়ের টেন্ডার খোলা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই গাছ কাটার কাজ শুরু হবে।’ বনগাঁর মহকুমাশাসক শুভম মৌর্য বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে ১১১টি গাছ কাটা হবে। বাকি ৩৮৯টি গাছও ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সেগুলিও কাটা হবে।’ এর পাশাপাশি বনগাঁয় ইছামতী নদীতে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজও শীঘ্রই শুরু হবে।