


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছরের পর বছর ধরে পিএফের ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন চলছে দেশজুড়ে। পেনশন বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রের শাসক দলের কেষ্টবিষ্টুরা তো বটেই, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির থেকেও একসময় প্রতিশ্রুতি মিলেছে। কিন্তু সেসব এখনও পর্যন্ত শুধু কথার কথাই রয়ে গিয়েছে। ন্যূনতম পেনশন এখনও পর্যন্ত সেই এক হাজার টাকাই রয়ে গিয়েছে। তাও নানা অজুহাতে সেটুকু পেনশনও পান না প্রায় ৩০ লক্ষ প্রবীণ। এরই মধ্যে সম্প্রতি আন্দোলনকারীদের ফের নতুন করে প্রতিশ্রুতি দিলেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য। লিখিতভাবে তিনি জানিয়েছেন, পেনশন বৃদ্ধির দাবিটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে সরকার। যদিও মন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতিতে আস্থা ফিরছে না পেনশনভোগীদের।
ন্যূনতম পেনশন সাড়ে সাত হাজার টাকা ও আরও কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে লড়াই করছে ইপিএস-৯৫ প্রকল্পের অধীন পেনশনভোগীদের সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাজিটেশন কমিটি। গতমাসে ইপিএফওর কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের বৈঠকের সময় এই কমিটির সদস্যরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সেই বিক্ষোভ প্রশমন করতে অছি পরিষদের চেয়ারম্যান তথা কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য আন্দোলনকরীদের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন, তাঁরা বিবেচনা করছেন পেনশন বৃদ্ধির বিষয়টি। তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনায় উঠবে বলে জানান তিনি।
ন্যাশনাল অ্যাজিটেশন কমিটির রাজ্য সভাপতি তপন দত্ত বলেন, কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতিতে আমরা নিশ্চিন্ত হতে পারি না। কারণ, এর আগেও এই প্রতিশ্রুতি মিলেছে। তাই না আঁচালে বিশ্বাস নেই। আমরা বহুবার পথে নেমেও কিছুই আদায় করতে পারিনি। তাই আবারও দিল্লিতে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। যন্তরমন্তরে ৩ এবং ৪ ডিসেম্বর আন্দোলন হবে। সেইমতো প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে দেশের নানা প্রান্তে। সাধারণ মানুষ যাতে আমাদের সমস্যাগুলি নিয়ে অবগত হন, তার জন্য জনবহুল এলাকায় পোস্টার সেঁটে প্রচারও শুরু করছি আমরা। পুলিশের অনুমতি পেলে কলকাতায় একটি প্রতিবাদ যাত্রা কর্মসূচিও নেওয়া হবে।
সংগঠনের রাজ্য স্তরের সচিব (অর্থ) অমিয়কুমার দাস বলেন, অছি পরিষদের বৈঠকে আমরা দাবিদাওয়া নিয়ে হাজির হব জেনে সরকার একাধিকবার বৈঠকের স্থান বদলে করেছে। কিন্তু আমরা পিছু হটিনি। দিল্লিতে আমরা বিক্ষোভ সমাবেশ করায়, মন্ত্রী বাধ্য হয়েছেন লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে। কিন্তু আমরা তাতে আশ্বস্ত নই। আন্দোলন চলবে দেশজুড়েই।