এসবি পার্কে খনি, নূতন দলের পুজোয় ১৩ পার্বণের মহামিলন
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: সম্পদের ভাণ্ডার বাংলা। দুর্গাপুর-রানিগঞ্জের কোলিয়ারি অঞ্চল শক্তির ভাঁড়ার। সেখানকার কয়লা গোটা রাজ্যের বিদ্যুতের চাহিদাপূরণ করে। আবার বাংলা মানে বিবিধ সংস্কৃতি, উৎসবের উৎসস্থলও। যা থেকে ‘বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পার্বণ’— এই প্রবাদের জন্ম। এবার দুর্গাপুজোয় বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন দেখা যাবে মণ্ডপে। আবেগের আরাধনার বিশেষ বার্তা নিয়ে দর্শকদের মন মাতাতে তৈরি বেহালার পুজো।

Advertisement

‘যে করে খনিতে শ্রম, যেন তারে ডরে যম/ধন্য শ্রমিকের দান, হীরকের রাজা ভগবান’—‘হীরক রাজার দেশে’র এভারগ্রিন সংলাপ। সংলাপ বলেছিলেন এক খনিমজুর। চরিত্রের নাম ছিল বলরাম। এমনই বহু ‘বলরাম’, ‘শ্যামলী’রা আদতে এ রাজ্যের রানিগঞ্জের কয়লাখনি এলাকার শ্রমিক। তাঁদের সম্মান জানাতে অভিনব ভাবনা ভেবেছে ঠাকুরপুকুর স্টেট ব্যাংক (এসবি) পার্ক। এবার তাদের থিম ‘কোলিয়ারি’। রানিগঞ্জ এলাকা, সেখানকার খনি শ্রমিকদের জীবনযাপন ও কয়লা সংক্রান্ত অপরাধ দমনের বার্তা দেওয়া হয়েছে ভাবনায়। মণ্ডপে প্রবেশ করার পর র‌্যাম্পে করে উঠতে হবে উপরে। সেখানে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে। এরপর র‌্যাম্প যাবে পাতালে। সবমিলিয়ে আস্ত একটা কয়লা খনি দেখতে পাবেন দর্শকরা। শেষে মাতৃরূপিণী দুর্গার বাস্তব রূপ। কয়লা বিদ্যুৎশক্তির আর এক রূপ। সে রূপ দেখা যায় মহিলা শ্রমিকের অক্লান্ত শ্রমের দৌলতে। শক্তির প্রতীক সেই মহিলা শ্রমিককেই দুর্গারূপে আরাধনা করবে এসবি পার্ক। প্রতিমার মুখ ভিন্ন। কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জ, দর্শকদের মন জয় করবে ভাবনা ও তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি প্রতিমা। মণ্ডপ ও প্রতিমাশিল্পী রাজু সরকারের কথায়, ‘৪ টন কয়লা ব্যবহার করে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। কয়লা শক্তির উপাদান। দুর্গাও শক্তির প্রতীক। সেটাই ভাবনাতে তুলে ধরা হয়েছে।’ অন্যতম উদ্যোক্তা সঞ্জয় মজুমদার বলেন, ‘আমার জ্ঞান অনুযায়ী, বাংলায় এর আগে কয়লাখনি নিয়ে দুর্গাপুজোর থিম হয়নি। এটাই এবার আমাদের ইউএসপি। মানুষ উপভোগ করবেন।’
ঠাকুরপুকুরের খনি দেখে এসে বেহালা নূতন দলে বাংলার রঙিন সংস্কৃতি উপভোগ করতে পারবেন পুজোপ্রেমীরা। সাড়ে ৪ হাজার স্কোয়ার ফুটের মধ্যে বাংলার বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায়ের আচার-উৎসবের স্বাদ মিলবে। মণ্ডবে ঢুকতেই থিম সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবে মানুষ। ৬১তম বর্ষে বেহালা নূতন দলের ভাবনা ‘পার্বণ’। উৎসব সঙ্গে নিয়ে মা আসছেন মর্তে। নানা রঙের কাপড়ের ব্যবহার। লোহার রডের কাঠামো তৈরি করে তার উপর কাপড়ের শক্ত বুননে জীবন্ত হয়ে উঠছে শিল্প। শিবের গাজন থেকে চড়ক, চৈত্র সংক্রান্তি থেকে পৌষপার্বণ, আবার মনসা পুজো থেকে জামাই ষষ্ঠী, কালীপুজো থেকে সরস্বতী পুজো, বাদ নেই বিশ্বকর্মা পুজো, দোল উৎসবও। বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পার্বণ। ফলে অধিকাংশ উৎসব, সংস্কৃতির আভাস মিলবে মণ্ডপসজ্জায়। কোথাও আঁকায়, কোথাও আবার স্থাপত্যে। চমক দিয়েছেন প্রতিমাশিল্পী অরিঘ্ন সাহা। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় জীবন্ত হচ্ছে মেঠো দুর্গা। তাঁর সন্তান-সন্ততিদের সঙ্গে গ্রামবাংলার অদ্ভুত মিল। দুর্গা মর্ত্যে নিয়ে আসছেন উৎসব, পার্বণের আবহ। শিল্পী সোমনাথ তামালি বলেন, ‘আদিবাসী, প্রান্তিক সমাজের মানুষকেও উৎসবে শামিল করার উদ্দেশে এই উদ্যোগ। সবরকম উৎসবই ঠাঁই পেয়েছে ভাবনায়।’ উদ্যোক্তা দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বিরাট বুদ্ধি খাটিয়ে থিম বুঝতে হবে, এরকম পুজো ভাবনার বিরোধী আমরা। মানুষ আমাদের থিম দেখে আনন্দ পাবেন। এটা একদম নিশ্চিত।’