নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল জমানায় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এমনই অভিযোগ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসাথী থেকে আয়ুষ্মান ভারতে মাইগ্রেশন চলাকালীন, তথ্য ট্রান্সফার করতে গিয়ে প্রথম খটকা লাগে। বেশকিছু লেনদেনে গরমিলও ধরা পড়ে। তারপর ফিনান্সিয়াল ফরেনসিক অডিটে তহবিল তছরূপ এবং ভুয়ো তথ্যের বিষয়টা জানতে পারি। দেখি, কাতারে কাতারে ভুয়ো উপভোক্তা, ভুয়ো হাসপাতাল-নার্সিংহোম, ভুয়ো রোগ, ভুয়ো বিল, ভুয়ো রোগী, ভুয়ো ডাক্তার, ভুয়ো সই। থার্ড পার্টি ইনসিওরেন্স সংস্থার ক্ষেত্রেও অসামঞ্জস্য মিলেছে। এরপরই তদন্ত শুরু করি। কতজন এই দুর্নীতির মধ্যে রয়েছে, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি আছে কি না, খোঁজা হচ্ছে।
সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল-নার্সিংহোমের অন্যতম সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম। সংগঠনের তরফে ডাঃ রাজীব পাণ্ডের দাবি, যতটুকু খোঁজ পাচ্ছি, কয়েক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। প্রায় ৩০ লক্ষ কার্ড ও উপভোক্তার খোঁজ নেই! বিজেপি’র মুখপাত্র সায়ন্তন বসুও সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্যসাথীর দুর্নীতি তদন্তে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।
এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে আরও বলেন, বহু ক্ষেত্রে যাঁর কার্ড, তিনিই জানতেন না। তাঁর কার্ডের নাম- নম্বর ব্যবহার করে, হাসপাতালে বিল তৈরি হত। একটা অপারেশনকে চারভাগে ভেঙে বিল হত। একটিতে যদি পেট কাটা দেখানো হতো, অন্যটিতে দেখানো হত পেট জোড়া। এমন বহু বিল পাশও হয়ে গিয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, এই দুর্নীতির টাকা কোথায় যেত, সেই মানি ট্রেলও আমরা খুঁজছি। বিলগুলোই বা কে বা কারা মঞ্জুর করেছে, তাও দেখা হচ্ছে। আপাতত অর্থনৈতিক অডিট করাচ্ছি। যদি দেখি বলয় আরও বড়, তদন্তের গতির পরিবর্তন হবে। আগের সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এ যদি আমরা মাত্র পাঁচ মাসে জানতে পারি, তাহলে কেন কেউ ১৫ বছরে জানতে পারল না? ডাঃ মুখোপাধ্যায় জানান, কোন জেলায় কত দুর্নীতি হয়েছে, কোন কোন ছোট বড় নার্সিংহোম এই দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিল, তাও দেখা হবে। নার্সিংহোম সংগঠন সূত্রের খবর, কমবেশি ৫ শতাংশ প্রাইভেট হাসপাতাল-নার্সিংহোম এই দুর্নীতিতে যুক্ত ছিল।



