ফুটিয়ে উথলে পড়ে গেলে, তবে খোলে দুধের স্বাদ। এই ব্যস্ত প্রজন্মের অত তারিয়ে তারিয়ে স্বাদ উপভোগ করার সময় কোথায়! সামান্য গরম করে খাওয়াই দস্তুর হয়ে উঠেছে। কিন্তু এমন সময়েও বাপ-ঠাকুরদার আমলের প্রথা ধরে রেখেছেন মুর্শিদাবাদের ডোমকলের রানিনগরের চরের বাসিন্দারা। সেই কবে পূর্ববঙ্গের ভিটে ছেড়ে জলঙ্গি, রানিনগর, সাগরপাড়ার চরে উঠে এসেছিলেন তাঁদের পূর্বপুরুষরা। তবু নববর্ষ এলেই তাঁদের সামনে ভেসে ওঠে চিরপ্রচলিত রীতিনীতি-সংস্কার। সেই রীতি মেনে দুধ ফুটিয়ে উথলে ফেলার প্রথা পালন করেন তাঁরা।
জানা গিয়েছে, ছয় ও সাতের দশকে পূর্ববঙ্গের অনেক হিন্দু পরিবার এই সমস্ত এলাকায় বসতি গড়েছিল। তাঁদের কেউ কেউ বাংলাদেশে ফিরে গেলেও অনেকেই এদেশের মায়া ছাড়তে পারেননি। তাঁরা এখানেই থেকে গিয়েছেন। ওই সমস্ত পরিবারের ছোটরা পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিবেশেই বড় হয়ে উঠেছে। তবে বাড়ির বয়স্কদের অন্তরে এখনও পূর্ববঙ্গের সংস্কৃতি, রীতিনীতি রয়ে গিয়েছে। নববর্ষের দিনে পূর্ববঙ্গের আত্মীয়স্বজন, ইলিশ ও পান্তা ভাতের কথা মনে পড়ে অনেকেরই। কীভাবে পালিত হয় এই উৎসব? সকালে গোরুদের স্নান করিয়ে, তাদের কপালে সিঁদুর পরিয়ে পুজো শুরু হয়। গোয়ালঘর পরিষ্কার করে সুন্দর করে দেওয়া হয় আলপনা। ওইদিন গোরুকে তার পছন্দের খাবার খেতে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মিষ্টিমুখও করানো হয়। গোরুর দুধ দুইয়ে তা গোয়ালঘরেই জ্বাল দেওয়া হয়। সেই দুধ উথলে না ওঠা পর্যন্ত বাড়ির বয়স্কা মহিলারা অপেক্ষা করেন। প্রচলিত বিশ্বাস, দুধ যত বেশি উথলে উঠবে ততই মঙ্গল। বাড়ির গোরুর দুধের পরিমাণও বাড়বে। এর ফলে সারা বছর দুধে-ভাতে থাকা যাবে। আর এই বিশ্বাস থেকেই প্রতি বছর নববর্ষের দিনে দুধ ফুটিয়ে কিছুটা উথলে ফেলে দেওয়া হয়। আর এভাবেই পালিত হয় দুধ ফুটিয়ে ফেলার উৎসব।