Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

বোমা বানানো শিখতে ইউটিউব ও চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিল জঙ্গি, লালকেল্লা বিস্ফোরণ চার্জশিট এনআইএর

লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণকাণ্ডে বোমা তৈরির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়েছিল জঙ্গি জাসির বিলাল ওয়ানি। ইউটিউব ও চ্যাটজিপিটি ঘেঁটে বিস্ফোরক তৈরির খুঁটিনাটি শিখেছিল আল কায়েদার শাখা সংগঠন একিউআইএসের জঙ্গি মডিউল আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দের যুক্ত ওই জঙ্গি।

বোমা বানানো শিখতে ইউটিউব ও চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিল জঙ্গি, লালকেল্লা বিস্ফোরণ চার্জশিট এনআইএর
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণকাণ্ডে বোমা তৈরির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়েছিল জঙ্গি জাসির বিলাল ওয়ানি। ইউটিউব ও চ্যাটজিপিটি ঘেঁটে বিস্ফোরক তৈরির খুঁটিনাটি শিখেছিল আল কায়েদার শাখা সংগঠন একিউআইএসের জঙ্গি মডিউল আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দের যুক্ত ওই জঙ্গি। তার ভিত্তিতেই রকেট ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাউস (আইইডি) তৈরি করেছিল সে। জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগের কাজিগুন্দ জঙ্গলে সেগুলির পরীক্ষাও চালানো হয়। বিস্ফোরণ কাণ্ডে দিল্লির বিশেষ আদালতে ৭ হাজার ৫০০ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। সেখানেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উল্লেখ করেছে তারা। 

Advertisement

কেন্দ্রীয় এজেন্সি জানিয়েছে,বিস্ফোরণ তৈরির জন্য সংগঠনের ‘ইন হাউস ইঞ্জিনিয়ার’ হয়ে উঠেছিল জাসির। ২০২৪-২৫ সালে বেশ কয়েকবার ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠাঁই নিয়েছিল সে। তদন্তকারীদের মতে, লালকেল্লা বিস্ফোরণে গোটা ষড়যন্ত্রের আতুঁড়ঘর ছিল এই প্রতিষ্ঠান। জাসিরের সঙ্গে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ির চালক ডাঃ উমর উন নবির আলাপ করিয়ে দিয়েছিল অন্যতম চক্রী ডাঃ আদিল আহমেদ রাদার।
তদন্তে এনআইএ জানতে পেরেছে, এনপিকে সারের নামে আইইডি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম নাইট্রেট সহ অন্যান্য সামগ্রী জাসিরের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল আদিলের উপর। পাশাপাশি রকেট আইউইডি তৈরির সংক্রান্ত গবেষণা চালাত ডাঃ উমরও। চার্জশিটে বলা হয়েছে, কীভাবে রকেট আইইডি তৈরি হয়? বিস্ফোরক তৈরির জন্য সামগ্রী কী হারে মেশাতে হবে? ইউটিউব ও চ্যাটজিপিটিতে সেই সংক্রান্ত তথ্য খুঁজত জাসির। ‘টেরর ইঞ্জিনিয়ারিং’য়ের জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল ও এআই প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার করেছিল অভিযুক্ত। সেই লক্ষ্যে সফলও হয় সে। ডাঃ উমর, ডাঃ মুজাম্মিল সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের সঙ্গে নিয়ে কাজিগুন্দের জঙ্গলে বিস্ফোরকের পরীক্ষাও করে জাসির। ওই স্থানে গিয়ে ধ্বংসাবশেষও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। শুধু কাজিগুন্দেই নয়, অনন্তনাগের ম্যাটানের কাছে ইউশমুর্গের জঙ্গলেও গ্যাসের সিলিন্ডার যুক্ত করে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল অভিযুক্তরা।  চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, জাসিরের কাজে খুশি হয়ে তাকে দু’টি ড্রোনও উপহার দিয়েছিল  ডাঃ উমর। এনআইএ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত শক্তিধর বোমা তৈরির পরিকল্পনা করছিল জাসির। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালে জানুয়ারি মাসের মধ্যে একটি জনপ্রিয় অনলাইন শপিং সাইট থেকে বিস্ফোরক তৈরির একাধিক সামগ্রী কিনেছিল সে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ