নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যে কোনো ধরনের মৌলবাদ যাতে রাজ্যে মাথাচাড়া দিতে না পারে তার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাজে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য পুলিশ ডিরেক্টরেট থেকে নির্দেশ গেল জেলায় জেলায়। মৌলবাদের বিপদ কোথায়, তা নিয়ে তরুণ সমাজের মধ্যে বিশেষভাবে প্রচার করার কথা বলা হয়েছে। কেউ কোনওভাবে এহেন ভাবধারায় আকৃষ্ট হয়ে জড়িয়ে পড়লেও, তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যায়। পাশাপাশি মৌলবাদ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় চলা প্রচার নিয়ে বাড়তি নজরদারির কথা বলা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের উপর আইনিভাবে নজরদারি চালাতে হবে।
বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ইদানিং শিক্ষিত ঝকঝকে তরুণ-তরুণীদের ‘টার্গেট’ করেছে। সম্প্রতি রাজ্যে ধরা পড়া পাকিস্তানের শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের সদস্যরা এর সর্বশেষ উদাহরণ। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে মৌলবাদের বীজ বপন করতে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীর নেতারা। পাকিস্তানের নির্দেশ মতো দেশের বিভিন্ন জেহাদি সংগঠন এই কাজের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের বেছে নিচ্ছে। কারণ এদের মাধ্যমে সংগঠনের নেটওয়ার্ক অনেক গভীরে পৌঁছে দেওয়া যায়। এরই সঙ্গে ভুয়ো প্রোফাইল খুলে বন্ধুত্ব গড়ে বিপুল টাকার টোপ দিয়ে ভবিষ্যত প্রজন্মকে যুক্ত করা হচ্ছে দেশবিরোধী নানা সংগঠনে। এই প্রবণতা আটকাতে আগেভাগেই সক্রিয় রাজ্য পুলিশ। এছাড়াও জঙ্গি সংক্রান্ত অপরাধের তদন্ত কীভাবে হবে, তাই নিয়ে লিখিত নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। সেখানে এনআইএ, এনএসজি, বিভিন্ন রাজ্যের এটিএস সহ কেন্দ্রীয় বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সম্বন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মামলার অগ্রগতি নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যবেক্ষণ করবেন পুলিশ সুপার। যাতে আদালতে মামলা মুখ থুবড়ে না পড়ে। ইউএপিএ সংক্রান্ত মামলার তদন্তকারী অফিসার হবেন ডিএসপি পদমর্যাদার কোনো অফিসার। বিস্ফোরণ বা জঙ্গি লুকিয়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনস্থলে গেলে উপযুক্ত পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে। যাতে কোনও ধরনের ঝুঁকি না থাকে। অনেক জায়গাতেই ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের দেরিতে খবর দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। নমুনা সংগ্রহের জন্য দ্রুত ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের খবর দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ধরা পড়লে, তার কাছে আসা টাকার উৎসস্থল খুঁজে দেখতে হবে। এরজন্য ব্যাংক এবং ইউপিআই লেনদেন, ক্রিপ্টো বা হাওলার মাধ্যমে টাকা এসেছে কি না, তার তথ্য জোগাড়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খতিয়ে দেখবে টেরর ফান্ডিংয়ের অর্থ সম্পত্তি বা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে কি না। যে তথ্য তারা পাবে, তা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সির সঙ্গে শেয়ার করতে হবে এ রাজ্যের তদন্তকারীদের।