Bartaman Logo
১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফোনে মন্ত্রী উমেশের ছেলেকে অপহরণের হুমকিও দেয় জঙ্গিরা!

শুধু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দৈনন্দিন গতিবিধির উপর ‘নজরদারি’ চালানোই নয়, মন্ত্রিসভার সদস্য উমেশ রাই’কে ‘টার্গেট’ করেছিল বর্ধমানে ধৃত জয়েশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডল।

ফোনে মন্ত্রী উমেশের ছেলেকে অপহরণের হুমকিও দেয় জঙ্গিরা!
  • ১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, বর্ধমান ও হাওড়া: শুধু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দৈনন্দিন গতিবিধির উপর ‘নজরদারি’ চালানোই নয়, মন্ত্রিসভার  সদস্য উমেশ রাই’কে ‘টার্গেট’ করেছিল বর্ধমানে ধৃত জয়েশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডল। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে রাজ্যের পুর প্রতিমন্ত্রী তথা হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাইকে ফোন করে ‘হুমকি’ও দিয়েছিল হামিম। তারপর থেকেই হামিমের উপর কড়া নজরদারি শুরু করে বেঙ্গল এসটিএফ। প্রসঙ্গত, জয়েশের এই জঙ্গিকে শুক্রবার সকালে বর্ধমান শহরের উপকন্ঠে অভিজাত উপনগরী রেনেসাঁর জিম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই উপনগরীর একটি ব্লকে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে থাকত হামিম। তার মোবাইল ফোন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের গতিবিধি, বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ভিডিও চিত্র মিলেছে। প্রাথমিক পর্বের জেরার পর গোয়েন্দারা জেনেছেন, মুখ্যমন্ত্রী, পুর প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হামিমের টার্গেট লিস্টে ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, অত্যন্ত সেন্সেটিভ বিষয়। যা বলার এসটিএফ বলবে। আন্তর্জাতিক সংস্রব রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপার। এটা নিয়ে আমার অন্তত কিছু বলা উচিত নয়। তবে একটা বিষয়, আমাদের মন্ত্রী উমেশ রাই ওদের স্ক্যানারে ছিলেন। 

Advertisement

গোয়েন্দারা বলছেন, ধুলাগড়ের সাম্প্রদায়িক গোলমালের পর থেকেই উমেশ রাই’কে ‘নিকেশ’ করার পরিকল্পনা শুরু করে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই মদতপুষ্ট বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। যার সর্বাগ্রে রয়েছে জয়েশ।  এর সঙ্গে যুক্ত হয় গ্যাংস্টার থেকে জঙ্গি হওয়া পাকিস্তানের শাহজাদ ভাট্টির নেটওয়ার্ক। হাওড়ার পিলখানার পোশাক কারখানার কর্মী হামিম মণ্ডলকে মগজধোলাই করে উমেশ রাইয়ের উপর নজরদারি চালাতে নির্দেশ দেয় পাক হ্যান্ডলাররা। নির্দেশ এসেছিল শাহজাদ ভাট্টির কাছ থেকেও। পিলখানায় থেকে সেই নজরদারির কাজ চালাচ্ছিল হামিম। রেকি করেছিল হাওড়া উত্তরের বিধায়কের বাড়ি এবং তাঁর রুটিন গতিবিধির। গোয়েন্দাদের ওই সূত্রটি বলছে, মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই উমেশ রাইকে ঘিরে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যায়। এই বিষয়ে পুর প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন আসে। মোটা টাকার দাবি করা হয়। হুমকি দেওয়া হয়, টাকা না দিলে হলে ছেলেকে অপহরণ করা হবে। তার আগে তাঁর দলীয় পুরনো কার্যালয়ের ছবি মোবাইলে পাঠানো হয়। মন্ত্রী বলেন, সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। তদন্ত শুরু করে এসটিএফ। উঠে আসে আদপে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামের হামিম খানের নাম। তার সঙ্গে জয়েশ এবং ভাট্টি নেটওয়ার্কে সংস্রবের তথ্যও পান গোয়েন্দারা। 
গোয়েন্দারা বলছেন, পুলিশ বা সেনা কর্মী সেজে মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের কাছে যাওয়ার ছক কষেছিল হামিম। আর সে কারণেই ‘ক্যামোফ্লেজ’ পোশাকের অর্ডার দিয়েছিল অনলাইনে। ১৫ আগস্টের পর টার্গেট পূরণের জন্য হামিমের কাছে নির্দেশ এসেছিল। কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের থেকে যে ১৭-১৮ জন জঙ্গির সঙ্গে হামিম যোগাযোগ রাখত, তাদের ফোন নম্বর পেয়েছেন গোয়েন্দারা।      

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ