নয়াদিল্লি: ধারাবাহিক বিস্ফোরণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল আগেই। তবে সেই প্রস্তুতি লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে অভিনব কায়দা বেছে নিয়েছিল জঙ্গিরা। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির উপাদান এবং বিস্ফোরক এক জায়গা থেকে অন্যত্র নিয়ে যেতে তাদের পয়লা পছন্দ ছিল পুরোনো হাতফেরত গাড়ি। কারণ? কোনও পরিস্থিতিতে গোলমাল দেখা দিলে, গাড়ির প্রকৃত মালিককে খুঁজে পেতে সময় লাগবে। আর আইনি জটিলতার সেই কানাগলির সুবাদে ‘ঝুটঝামেলা’ থেকে পার পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেই কারণেই এই কৌশল। লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে নেমে এই অভিনব পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। জানা গিয়েছে, যে ৩২টি গাড়িকে জঙ্গিরা কাজে লাগিয়েছিল, তার সবগুলিই পুরোনো।
গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লার সামনে আত্মঘাতী হামলায় ধ্বংস হয়েছে আই২০ গাড়িটি। সেটিও ছিল হাত ফেরতা পুরনো গাড়ি। এছাড়া জঙ্গিদের কাজে ব্যবহার করা বাজেয়াপ্ত গাড়িগুলির মধ্যে রয়েছে ব্রেজা, সুইফ্ট ডিজায়ার, ইকোস্পোর্টস। এগুলিও বহুবার বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে ব্রেজা গাড়িটি রয়েছে হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। বিস্ফোরণের সঙ্গে ধৃতদের অধিকাংশই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে ইকোস্পোর্ট গাড়িটিকে বুধবার পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে হরিয়ানার ফরিদাবাদে। সেই গাড়ির ভিতরে এক যুবক ঘুমোচ্ছিলেন। তাঁকে হেপাজতে নিয়েছে পুলিশ। আর সোমবার ডিজায়ার গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে অ্যাসল্ট রাইফেল সহ প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র।