ঢাকা: ‘খিলাফত’ গঠনের লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এবার বাংলাদেশেও ‘খিলাফত রাষ্ট্র’ তৈরির দাবি উঠল। নেপথ্যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরির। এই দাবিতে শুক্রবার ঢাকায় মিছিল করল তারা। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দান থেকে ‘স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে’র ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের বার্ষিকীতেই রাজধানীর রাস্তায় দেখা গেল মৌলবাদীদের দাপাদাপি! শুক্রবার যে মিছিল হবে, তা দু’দিন আগেই ঘোষণা করে দিয়েছিল হিজবুত। কিন্তু তারপরেও মিছিল বন্ধে এদিন ইউনুস সরকারের পুলিসের কোনও ভূমিকাই ছিল না। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, হিজবুতকে বর্তমান বাংলাদেশে ‘রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে জায়গা করে দিতেই এদিন পুলিস বা প্রশাসনকে মিছিল ঠেকাতে প্রাথমিকভাবে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি।
দুপুরের নামাজের পর বায়াতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের গেট থেকে শুরু হয় মিছিল। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিজবুত কর্মী-সমর্থকরা তাতে অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল আইএসের ধাঁচে পতাকা ও ব্যানার। খিলাফতের সমর্থনে স্লোগানও ওঠে। প্রথমে মাত্র দশজন পুলিসকর্মী মিছিল আটকাতে যান! কিছুক্ষণ চেষ্টার পর হাল ছেড়ে দেন তাঁরা। পল্টন পার হয়ে বিজয়নগর পর্যন্ত চলে যায় মিছিল। তবে এরপর মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে শুরু হয় পুলিসের লাঠিচার্জ। শুরু হয় খণ্ডযুদ্ধ। আন্দোলনকারীদের হটাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ফাটানো হয়। কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সূত্রের খবর, আটকদের মধ্যে গত জুলাইয়ে শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন জেল ভেঙে পালানো কয়েকজন আসামিও রয়েছে। তবে, পুলিস কিছু জানায়নি। ঢাকা মহানগর পুলিসের তরফে শুধু বলা হয়েছে, হিজবুত তাহরির একটি নিষিদ্ধ সংগঠন।
আইন অনুযায়ী এদের সব কার্যকলাপ
শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদিও মিছিল শুরুর আগেই কেন পুলিস তাদের আটকাল না, সেই প্রশ্ন উঠছেই।
আদর্শগতভাবে হিজবুত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। বিশ্বে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য। জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০০৯ সালে আওয়ামি লিগ সরকার হিজবুতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সংগঠনটিকে ‘সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এরপর ভারত সহ আরব দুনিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ, জার্মানি, তুরস্ক, ব্রিটেন এমনকি পাকিস্তানেও হিজবুতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনেও হিজবুত সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সঙ্গে হিজবুতের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই বাংলাদেশে হিজবুতের কার্যকলাপ আরও বেড়েছে। গত বছর ৭ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে সভা করে খিলাফত গঠনের দাবি জানিয়েছিল তারা। ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার প্রেসক্লাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানায় হিজবুত।