শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা:
শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা:
সুপার কাপের সেমি-ফাইনালে ইস্ট বেঙ্গল। অর্জুনের লক্ষ্যভেদের মতো ট্রফিতেই ফোকাস অস্কার ব্রুজোঁর। স্প্যানিশ কোচ কী শেষ হাসি হাসবেন? দিল্লি এখনও বহু দূর। তবে লাল-হলুদ সমর্থকদের চোখ চকচকে। ঠাসবুনোট মাঝমাঠ অস্কার-ব্রিগেডের পাওয়ার হাউস। বিশেষজ্ঞ মত, ‘এম’ ফ্যাক্টরে লুকিয়ে সাফল্যের নির্যাস। ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল ও মহেশ সিংয়ের যুগলবন্দি তুবড়ির মতো জ্বলছে। প্রসঙ্গ উঠতেই মিগুয়েলের ঠোঁটে চওড়া হাসি। বলছেন, ‘মহেশের মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই। বল বাড়ানোর সময় দু’চোখ মেলে দেখতে হয়। ওর সঙ্গে জুটি দারুণ উপভোগ্য।’
বর্তমান ভারতীয় ফুটবলে প্লে-মেকার ডোডো পাখির মতো বিরল। হাতে গোনা কয়েকজনের অন্যতম নাওরেম মহেশ। জাল কাঁপানোর পাশাপাশি অ্যাসিস্টও করছেন সমানে। সবচেয়ে বড় কথা, মিগুয়েলের সঙ্গে তাঁর টেলিপ্যাথিক বোঝাপড়া। ক্রমাগত শাফল করে চাপ বাড়াচ্ছেন দু’জন। মহেশ ম্যাজিকে মুগ্ধ মিগুয়েল বললেন, ‘প্রথমদিনেই অবাক করে মহেশ। সামনে বল বাড়াতে দক্ষ। খেলায় বুদ্ধিমত্তার ছাপ স্পষ্ট। এমনটা চট করে দেখা যায় না।’ সতীর্থকে প্রশংসায় ভরালেন মিগুয়েল। পাশাপাশি রশিদ ও সাউলকে নিয়েও উচ্ছ্বসিত তিনি। সুপার কাপে প্রথম একাদশে ছয় বিদেশি খেলানো যায়। সেই সুযোগের সদ্বব্যবহার করছেন ইস্ট বেঙ্গল কোচ। সাউল ও রশিদ বল স্ন্যাচ করায় চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারছেন মিগুয়েল। এই প্রসঙ্গে ব্রাজিলিয়ানের ব্যাখ্যা, ‘দেখুন রশিদ অসম্ভব ওয়ার্কলোড নেয়। বক্স টু বক্স খেলতেও দক্ষ। এমন ফুটবলার যে কোনও দলের সম্পদ। এবার যে করে হোক ট্রফি জিততে হবে।’ ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে প্রথম খেতাবের স্বাদ পেতে মুখিয়ে তিনি।
অস্কার ব্রুজোঁর কোচিংয়ে বাংলাদেশের বসুন্ধরায় ফুল ফোটান মিগুয়েল। অস্কারের পরামর্শেই নিঃশব্দে তাঁকে তুলে নেয় ইস্ট বেঙ্গল। ক্রমশই ভরসা দিচ্ছেন তিনি। বললেন, ‘গোটা দল সাফল্য পেতে মরিয়া। সমর্থকরা একটু সময় দিন প্লিজ। কথা দিচ্ছি, হতাশ করব না। বারবার কিন্তু বল ক্রসপিসে প্রতিহত হবে না।’