সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: হরিয়ানা পুলিস জানিয়ে দিয়েছে ৩১ জুলাই চূড়ান্ত সময়সীমা। তাই বাস ভাড়া করে দলে দলে পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। বাংলা ও বাঙালি নিয়ে সরগরম রাজ্য। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বারবার বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে জেলার গঙ্গারামপুর, বংশীহারি, হরিরামপুর ও কুশমণ্ডি এলাকার শ্রমিকরা আতঙ্কে ফিরছেন নিজেদের গ্রামে। কয়েকদিন ধরেই বুনিয়াদপুর শহরের নারায়ণপুর স্কুল মাঠ এলাকায় ট্যুরিস্ট বাসে করে এলাকার শ্রমিকেরা নামছেন। হরিয়ানায় কাজ ছেড়ে গ্রামে এসে ঠিক কী কাজ, তা নিয়ে দিশেহারা শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে,হরিয়ানার গুরুগ্রামে স্থানীয়রা বেসরকারি সংস্থার জমিতে ছোট ছোট ঘর বানিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভাড়া দিত। অল্প টাকায় শহর লাগোয়া বস্তিতে দীর্ঘদিন থেকেই থাকতেন জেলার শ্রমিকরা। এবারে হঠাৎ করেই সেই জায়গা খালি করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে পুলিসের তরফে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বস্তি ছেড়ে চলে যেতে হবে তাঁদের।
এদিকে দিশা না পেয়ে পরিবার নিয়েই গ্রামে ফিরতে শুরু শ্রমিকদের। হরিয়ানা সহ দিল্লিতে থাকা একাধিক পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে এমন ঘটনা সামনে এসেছে বলে অভিযোগ। যদিও জেলা বিজেপি নেতৃত্ব ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে।
বুনিয়াদপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাঙ্গাপুকুর এলাকার বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক মাসুদ করিম বলেন, আমরা গুরুগ্রামে একটি বস্তিতে থাকতাম। প্রশাসনের তরফে আমাদের জানানো হয় ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জায়গা না ছাড়লে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তারপরই পরিযায়ী শ্রমিকরা বাস ভাড়া করে পরিবার নিয়ে বাড়ি চলে এসেছি। আমাদের ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকার পরেও তাড়িয়ে দেওয়া হল। গ্রামে এসে কী কাজ করব, কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না।
তৃণমূলের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, জেলার শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে কাজ করতেন। শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য কাজ হারিয়ে তাঁদের গ্রামে ফিরতে হচ্ছে। আমরা শ্রমিকদের পরিবারের উপরে নজর রাখছি। যেকোনও সমস্যায় আমরা পাশে আছি।
বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, যাঁদের ভারতীয় প্রমাণপত্র রয়েছে, তাঁদের কিছুই হবে না। ভিনরাজ্যে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।