Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁচা টাকার লোভে পাচারে জড়াচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকরা

কাঁচা টাকার লোভে পাচারে জড়াচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকরা
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল  বহরমপুর: ভিন রাজ্য থেকে গ্রামে ফিরলেই উপার্জন তলানিতে। পরিযায়ী শ্রমিকরা তখন সংসারের খরচ জোগাতে হিমশিম খান।  এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই পরিযায়ী শ্রমিকদের পাচারের কাজে নামাচ্ছে চোরা কারাবারিরা। ছোট একটি প্যাকেট কিংবা বস্তা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিলেই মিলবে কাঁচা টাকা। এই লোভে অনেকে পরিযায়ী শ্রমিকই মাদক ও অন্য সমাগ্রী পাচারের ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এইসব পরিযায়ী শ্রমিকদের আগের কোনও ক্রাইম রেকর্ড না থাকায় তাদের সম্পর্কে পুলিসের কাছে খবরাখবর থাকে না। এটা পাচারকারীদের সুবিধে করে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনায় সীমান্তে নতুন ক্যারিয়ার নিয়োগের কথা জানতে পেরেছে পুলিস। অনেকেই ক্যারিয়ার থেকে ধীরে ধীরে নিজের পাচারের ব্যবসা শুরু করে। যেমন, চার মাস আগে সাগরপাড়ায় নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের দুই সিন্ডিকেটের মধ্যে বিবাদে নাম জড়িয়ে যায় কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিকের। সিরাপ সিন্ডিকেটের অন্যতম মাথা হয়ে উঠছিল মামুন মোল্লা (২১)। সাগরপাড়ার খয়েরতলা এলাকায় তার বাড়ি। কয়েক বছর ধরে কেরলে ঠিকা শ্রমিকের কাজ করত সে। গত বছরের অক্টোবরে বাড়ি ফিরে দুই মাস যাবত সিরাপ পাচারের কাজে নেমে পড়ে। তারপর সিরাপ সিন্ডিকেট নিয়ে বিবাদের জন্য বোমা বাঁধতে গিয়ে গত ৯ ডিসেম্বর ভোর রাতে বিস্ফোরণে মারা যায় মামুন। অপরদিকে, গত বছর অক্টোবরের শেষের দিকে সাগরপাড়া থেকে কেরলে যাচ্ছিল এক পরিযায়ী শ্রমিক। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রানিনগরের শেখপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে কলকাতাগামী একটি দূরপাল্লা বাসে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে চার কেজি গাঁজা সহ শেখাওয়াত হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতের কাছে থাকা একটি লাগেজ ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় ওই গাঁজা। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট লালগোলার কৃষ্ণপুর হাসপাতাল মোড় থেকে সুমন শেখ, ওদুদ শেখ, ইসরাফিল শেখ ও সাবির আহমেদকে হেরোইন সহ গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতদের কাছে ১ কেজি ২০০ গ্রাম হেরোইন মেলে। ধৃতদের মধ্যে শাবির বাদে বাকি তিনজনই পরিযায়ী শ্রমিক। জুলাই নাগাদ তারা চলে আসে লালগোলায়। তারপর মাদক কারবারে ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করে। এমন বহু পরিযায়ী শ্রমিক সহজে মোটা টাকা উপার্জন করতে অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনায় আমরা দেখছি সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পাচারের কাজে পরিযায়ী শ্রমিকরা যোগ দিচ্ছে। অনেকেই বাইরে থেকে কাজ ছেড়ে দিয়ে গ্রামে এসে অবৈধ ভাবে উপার্জন করছে। আমরা গ্রামে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। তারা যাতে বিপথে না যায়, সচেতন করার চেষ্টা করছি। 

Advertisement

পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা কর্ণসুবর্ণের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার মতিউর রহমান বলেন, এটা খুবই খারাপ হচ্ছে। বাইরে মোটা টাকা উপার্জন করে এসে এখানেও টাকা উপার্জন করার চেষ্টা থাকে অনেকের। এই জেলায় সেরকম কোনও কাজ না থাকায় তারা সহজেই পাচারের কাজে নেমে পড়ছে। সীমান্ত লাগোয়া গ্রামে গেলেই দেখা যায় বহু যুবক বাইরে থেকে কাজ করে এসে অনেকেই অবৈধ কাজে যোগ দিচ্ছে। অনেকেই ধরা পড়ে জেলে যাচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকরা যাতে অবৈধ পাচারের কাজে না জড়িয়ে পড়ে সেজন্য আমরা গ্রামে গ্রামে মানুষকে সচেতন করার কাজ করছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ