বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা :
বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা :
‘লিঙ্ক’-এর গেরোয় এবার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিশুদের মিড ডে মিল নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হল! কেন্দ্রীয় সরকার ফরমান জারি করেছে, মায়ের ই-কেওয়াইসি যাচাই না হলে বন্ধ হবে শিশুর খাবার! ফলে বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের লক্ষ লক্ষ মা ও শিশু। সূত্রের খবর, আধার যাচাই না হয়ে থাকলে নভেম্বর থেকেই সংশ্লিষ্ট শিশুর মিড ডে মিল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থায় এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৮ শতাংশ ক্ষেত্রে মায়ের আধার যাচাইকরণ সম্ভব হয়েছে। এই কাজ করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যা বা জটিলতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে আইসিডিএস কর্মীদের? এত সময়ই বা লাগছে কেন? জানা গিয়েছে, অন্যতম সমস্যা হল বহু ক্ষেত্রে মায়ের মোবাইলের সঙ্গে আধারের ‘লিঙ্ক’ না থাকা। ‘লিঙ্ক’ না থাকলে ই-কেওয়াইসি যাচাই সম্ভব নয়। রয়েছে আরও একাধিক সমস্যা।
বর্তমানে রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে নথিভুক্ত শিশুর সংখ্যা প্রায় ৭১ লক্ষ ৬৯ হাজার। কোন কোন শিশু মিড ডে মিল পাচ্ছে, আগে সেই হিসেব রাখা হতো খাতায়। কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশ দেয়, সেই হিসেব তুলতে হবে ‘পোষণ’ অ্যাপে। কয়েক বছর আগে তারা ফের জানায়, শুধু অ্যাপে তথ্য তুলে দিলেই হবে না। সরকারি টাকার নয়ছয় আটকাতে শিশুর মায়ের আধার কার্ডের তথ্যও আপলোড করতে হবে অ্যাপে। এখন তাদের নয়া নির্দেশ, মায়েদের জমা করা আধার-তথ্য আদৌ সঠিক কি না, তাও যাচাই করতে হবে। এক্ষেত্রে একমাত্র উপায় ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড। মোবাইলের সঙ্গে আধার সংযুক্ত থাকলেই যা সম্ভব। পদ্ধতিটি হল, মায়ের মোবাইলে ওটিপি আসার পর আইসিডিএস কর্মীরা মায়ের মুখের ছবি তুলবেন। আধারের ছবির সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে ওই অ্যাপের মাধ্যমেই। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আইসিডিএস কর্মী সমিতির কার্যকরী সভানেত্রী ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায় জানান, বহু ক্ষেত্রে শিশুর মায়ের মুখের সঙ্গে আধারের ছবি মিলছে না। কারণ, নাবালিকা অবস্থায় বিবাহ হয়েছে। তখনকার আধারের সঙ্গে এখনকার মুখের ছবি না মেলায় যাচাই সম্পূর্ণ হচ্ছে না। বহু মায়ের আধারের সঙ্গে মোবাইলের ‘লিঙ্ক’ করানো নেই। থাকলেও সংশ্লিষ্ট সিম কার্ডটি অকেজো বা সেটি অন্য কারও নামে ইস্যু হয়ে গিয়েছে। ইন্দ্রাণীদেবীর কথায়, ‘আমরা লক্ষ্য করছি, ফাইভ জি ডেটা স্পিড না থাকলে অ্যাপে প্রক্রিয়াটি শেষ করাই যাচ্ছে না। রাজ্য সরকার আমাদের মোবাইল দেবে বলে ঘোষণা করেছিল। এখনও তা আমরা পাইনি। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়।’
তবে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এখন রাজ্যজুড়ে মায়েরা আধারের সঙ্গে মোবাইল সংযুক্তির জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্কের এক কর্তার কথায়, ‘রাজ্যে আমাদের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার আধার-মোবাইল লিঙ্ক হতো। কিন্তু গত এক সপ্তাহে সেই সংখ্যা গড়ে ২০ হাজারে পৌঁছেছে। খবর নিয়ে দেখেছি, মিড ডে মিলের ক্ষেত্রে কেওয়াইসি যাচাইয়ে জোর দিতেই ভিড় বাড়ছে মায়েদের।’