সংবাদদাতা, বজবজ: এখন থেকে সাতদিন খোলা থাকবে মহেশতলার বাটা কারখানা। শনি ও রবিবার ছুটি থাকার পুরনো নিয়মের বদল হতে চলেছে। কারখানা আধুনিকীকরণের স্বার্থে নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে কোম্পানি। এমনটাই শ্রমিকদের বলা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এর ফলে এখন ছুটির বিষয়টি ডিউটির রোটেশন অনুসারে ঠিক হবে। বাটা কোম্পানির এই নিয়ম পরিবর্তনের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে অনির্বাচিত মেয়াদ উত্তীর্ণ বাটা মজদুর ইউনিয়নের মাথারা। তা নিয়ে কারখানার ভিতর ও বাইরে বাটানগর জুড়ে শ্রমিকদের ভিতর অসন্তোষ শুরু হয়েছে। বিষয়টি মানবেন না বলে প্রকাশ্যেই শ্রমিকরা এর বিরধিতা করছেন। বাটা গেট মিটিংয়ে শ্রমিকদের সামনে যখন এই বিষয়ে ইউনিয়নের সম্পাদক পিযূষ দাস বক্তব্য রাখেন, সেই সময় অধিকাংশ শ্রমিক চিৎকার করে একসুরে জানিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্ত তাঁরা মানবেন না। বিক্ষুব্ধরা প্রশ্ন তোলেন, ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটির এখন কোনও বৈধতা নেই। পদাধিকারীদের কেউ বৈধ নন। কারণ কমিটির নির্বাচনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। তাই কোম্পানির এই সাতদিন কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্তে ইউনিয়ন স্বাক্ষর করে কোন যুক্তিতে? এটা সম্পূর্ণ শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী। শ্রমিকদের লাগাতার চিৎকার আর হট্টগোলের জেরে পীযূষবাবুর বক্তব্য শোনাই যাচ্ছিল না। শ্রমিকদের প্রবল ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখে শেষে পীযূষবাবু বলেন, এটা মৌখিকভাবে হয়নি। সরকারি হস্তক্ষেপে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে এই চুক্তি হয়েছে। সেই বৈঠকে কোম্পানি, সরকারি আধিকারিক ও ইউনিয়নের নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলাম। প্রথমে ইউনিয়নের পক্ষে আপত্তি তোলা হয়েছিল। কিন্তু সরকারি হস্তক্ষেপে শেষে ইউনিয়ন স্বাক্ষর করেছে। এই সব শোনার পরেও শ্রমিকদের অধিকাংশ তা মানবেন না বলে জানিয়ে দেন। পীযূষবাবু পরিস্থিতি উত্তপ্ত বুঝতে পেরে বলেন, আপনারা যদি মানতে না চান, তা লিখিতভাবে ইউনিয়নকে জানান। সেটি কোম্পানির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তাতে অবশ্য মন গলেনি শ্রমিকদের। বরং ইউনিয়নের বিরুদ্ধেই আজ মঙ্গলবার পাল্টা বাটা কারখানার গেটের সামনে এই ইস্যুতে মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে বাটার অধিকাংশ শ্রমিক হাজির হয়ে ইউনিয়নের নির্বাচন চাওয়ার পাশাপাশি সাতদিন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত বাতিলের পক্ষে দাবি জানাবে।
Advertisement
প্রসঙ্গত, অনেকদিন ধরেই তৃণমূলের ক্ষমতাসীন শিবির ইউনিয়নের ভোট চাইছে। কিন্ত তা নিয়ে টালবাহানা করছে তৃণমূলের অন্যপক্ষ ক্ষমতাহীন পীযূষবাবুর শিবির।



