মুম্বই: ভোট মিটতেই কোপ! বাংলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আদলে ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লড়কি বহিন’ প্রকল্প চালু হয়েছিল মহারাষ্ট্রে। বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে এই প্রকল্প চালু করেছিল রাজ্যের বিজেপি জোট সরকার। তড়িঘড়ি মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল এককালীন টাকা। কিন্তু ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পরই এক ধাক্কায় প্রায় পাঁচ লক্ষ সুবিধাপ্রাপক মহিলার নাম ছেঁটে ফেলল সরকার। কেন এই পদক্ষেপ? বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকারের যুক্তি, ওই মহিলারা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ‘উপযুক্ত’ নন। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, ‘মাপকাঠি’ বিবেচনা না করে ভোটের আগে কেন ঢালাওভাবে প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হল? তা কি শুধু ভোটে সুবিধার কথা ভেবেই?
Advertisement
গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ কোটি ৪৬ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছিলেন। কিন্তু জানুয়ারিতে সুবিধাপ্রাপকের সংখ্যা কমে হয়েছে ২ কোটি ৪১ লক্ষ। পারিবারিক রোজগার বার্ষিক আড়াই লক্ষ টাকার কম, এমন মহিলাদের দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে মহাযুতি জোট। এমনকী সাহায্যের পরিমাণ ভোটের পর বাড়িয়ে ২১০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতিও দেয় তারা। বিজেপি, সিন্ধেপন্থী শিবসেনা ও অজিতপন্থী এনসিপির এই জোটের দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পিছনে এই প্রকল্প অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রবিবার মহারাষ্ট্র সরকারের নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তর সূত্রে বলা হয়েছে, শর্ত অনুযায়ী যাঁরা প্রকল্প পাওয়ার উপযুক্ত নন, তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আর এরপরেই প্রশ্ন উঠেছে, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই ‘অযোগ্য’ উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে যে টাকা গিয়েছে, সেই টাকা কি ফেরত দিতে হবে? যদিও নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অদিতি তাতকারের আশ্বাস, ওই টাকা ফেরত নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই সরকারের। তবে তাঁরা আর প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, যে ৫ লক্ষ মহিলার নাম বাদ গিয়েছে, তাদের মধ্যে দেড় লক্ষের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। অন্যদিকে, ১ লক্ষ ৬০ হাজার মহিলা হয় গাড়ির মালিক বা অন্য কোনও সরকারি সুবিধা প্রাপক। ২ লক্ষ ৩০ হাজার মহিলা আবার সঞ্জয় গান্ধী নীরধর প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় তাদের লড়কি বহিন যোজনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দপ্তর সূত্রে খবর, গত ছয় মাসে ওই ‘অযোগ্য’ উপভোক্তাদের জন্য লড়কি বহিন যোজনায় এখনও পর্যন্ত ৪৫০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে সরকারের।
নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, যে ৫ লক্ষ মহিলার নাম বাদ গিয়েছে, তাদের মধ্যে দেড় লক্ষের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। অন্যদিকে, ১ লক্ষ ৬০ হাজার মহিলা হয় গাড়ির মালিক বা অন্য কোনও সরকারি সুবিধা প্রাপক। ২ লক্ষ ৩০ হাজার মহিলা আবার সঞ্জয় গান্ধী নীরধর প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় তাদের লড়কি বহিন যোজনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দপ্তর সূত্রে খবর, গত ছয় মাসে ওই ‘অযোগ্য’ উপভোক্তাদের জন্য লড়কি বহিন যোজনায় এখনও পর্যন্ত ৪৫০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে সরকারের।



