নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুলিসের ডেপুটি কমিশনারের (সাউথ সাবার্বান ডিভিশন) অফিস ও রিজেন্ট পার্ক থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে লুট। সোমবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ম্যুর অ্যাভিনিউতে একটি দোতলা বাড়িতে ঢুকে ৮ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়না লুঠের অভিযোগ উঠল। মহিলাকে ছুরির ভয় দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে দুই দুষ্কৃতী ১০ ভরি গয়না ও কিছু নগদ হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। কিন্তু, জনবহুল এলাকায় ভরসন্ধ্যায় কীভাবে চুপচাপ লুটের ঘটনা ঘটল তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিস।
Advertisement
পুলিস সূত্রে খবর, অভিযোগকারিণী মহিলা বিবাহিত। ম্যুর অ্যাভিনিউর বাড়িতে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বাস। সামনেই তাঁদের ছেলের বিয়ে। গৃহকর্ত্রীর দাবি, সেই উপলক্ষ্যে প্রায় ১০ ভরি সোনার গয়না কিনেছিলেন তিনি। বাড়ির আলমারির লকারে সেই গয়না রাখা ছিল। এদিন সন্ধ্যায় গৃহকর্ত্রীর পাড়ার একটি দোকানে গিয়েছিলেন। তাঁর স্বামীও ছিলেন না। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ফেরেন। মহিলার দাবি, তাঁর বাড়ির কাছেই দুই দুষ্কৃতী মুখ মাস্কে ঢেকে ঘাপটি মেরে ছিল। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে তারা মালকিনের পিছন পিছন ঢুকে যায়। এরপরেই ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়। একজন গলায় ছুরি ধরে তাঁর মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। অপরজন মহিলার হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয়। লকার থেকে গয়না হাপিস করে চম্পট দেয়। পালানোর আগে মহিলার মাথায় আঘাত করা হয় বলে দাবি। মহিলার স্বামী ফিরে স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে পুলিসে খবর দেন। পুলিস জেনেছে, অভিযোগকারিণীর এক আত্মীয় সম্প্রতি তাঁর থেকে ৪-৫ লক্ষ টাকা ধার চেয়েছিলেন। ওই আত্মীয় বাঁশদ্রোণীর বাসিন্দা। কিন্তু, গৃহকর্ত্রী সেই টাকা দেননি। তার জেরেই আক্রোশের বশে এই লুট কিনা, খতিয়ে দেখছে পুলিস। বাঁশদ্রোণীর ওই আত্মীয়কে রাতেই থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস।



