Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মেঘালয়ের ডাউকি নদী পেরিয়ে ভারতে ঢোকে আততায়ী, শিলিগুড়ি থেকে সিম কিনে মুম্বইয়ে

মেঘালয়ের ডাউকি নদী পেরিয়ে ভারতে ঢোকে আততায়ী, শিলিগুড়ি থেকে সিম কিনে মুম্বইয়ে
  • ২২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
মুম্বই  ও নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে। সেই সময় খালেদা জিয়ার দলকে সমর্থন করত শরিফুল ইসলাম শেহজাদ মহম্মদ রোহিল্লা আমিন ফকির। জাতীয় দলের কুস্তিগির সে। আচমকা নানা অপরাধমূলক কাজে নাম জড়ায় তার। ভাগ্যান্বেষণে সে চলে আসতে চায় ভারতে। উপায়? ডাউকি নদী। মেঘালয়ের এই নদীর একদিকে বাংলাদেশ, অপরদিকে ভারতীয় ভূখণ্ড। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিএসএফের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও অনেকেই এই নদী পেরিয়ে অবৈধভাবে ঢুকে পড়েন বাংলাদেশে। সেই তালিকাতেই রয়েছে শরিফুলের নাম। সইফ আলি খানের উপর হামলার অভিযোগে সে এখন জেলবন্দি। মঙ্গলবার মুম্বইয়ের লীলাবতী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন সইফ। ফিরেছেন বান্দ্রার ‘সৎগুরু শরণ’ আবাসনেই। যেখানে গত বুধবার রাতে তাঁর উপর ছ’বার নেমে এসেছিল ছুরির কোপ। 
Advertisement
মঙ্গলবার ভোরে প্রায় একঘণ্টা ধরে এই আবাসনেই পুলিসে পুলিসে ছয়লাপ ছিল। গত বুধবার রাতে কীভাবে শরিফুল ঢুকেছিল ওই আবাসনে? কীভাবে ছুরির কোপ চালিয়েছিল সে? হামলার পর পালিয়েছিল কোন পথে? সমস্ত উত্তর পেতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। মুম্বই পুলিস এদিন জানিয়েছে, গ্রেপ্তারির পর নিজেকে কলকাতার বাসিন্দা বলে দাবি করেছিল শরিফুল। তবে তার ফোন ঘেঁটে মেলে বাংলাদেশে ফোনের কল রেকর্ড। এমনকী, ফোন নম্বরের সূত্র ধরেই তার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিস। সূত্রের দাবি, বাংলাদেশে পালাবদলের আগে গত বছর এপ্রিলে ভারতে ঢুকে পড়ে শরিফুল। শিলং থেকে শিলিগুড়ি। বঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ছিল। চেষ্টা করে আধার কার্ড তৈরির। ব্যর্থ হয়ে খুকুমণি জাহাঙ্গির শেখ নামের এক মহিলার আধার কার্ড ব্যবহার করে সে। কেনে ভারতীয় সিম। তা নিয়েই পাড়ি দিয়েছিল মুম্বইয়ে। লেবার কন্ট্রাক্টর অমিত পান্ডে তাকে সাহায্য করেছিলেন হোটেল ও পাব হাউজ কিপিংয়ের কাজে যোগ দিতে। আরও বেশি টাকার লোভে চুরির ছক কষে শরিফুল। গত বুধবার রাতে সবকিছু শুনশান হয়ে গেলে সইফের আবাসনে ঢোকে এসির ডাক্ট বেয়ে। ১০ তলার স্নান ঘরে লুকিয়েছিল দীর্ঘক্ষণ। তারপরই সইফ পুত্র জাহাঙ্গিরের ঘরে ঢোকে। এক মহিলা পরিচারক দেখে ফেলায় তাঁর উপর হামলা চালায়। পিছন থেকে আটকাতে যান সইফ। সাতপাঁচ না ভেবেই সে চালিয়ে দেয় ছুরি। 
মঙ্গলবার বেরন দুপুর দু’টোয় সাদা শার্ট, জিনস, চশমা পরে হাসপাতাল থেকে বের হন সইফ। পরিষ্কার করে কাটা দাঁড়ি-গোঁফ। ছোট চুল। চালচলন দেখে সকলের মন্তব্য— ‘সিংহের মতোই।’ এদিন কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে গাড়ি ওঠেন তিনি। বসেন চালকের পাশের আসনে। তাঁকে আনতে গিয়েছিলেন স্ত্রী করিনা কাপুর খান ও মা শর্মিলা ঠাকুর। সৎগুরু শরণে তাঁকে ফেরানো হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। পরে দেখা যায়, সেখানেই পৌঁছন তিনি। মূল ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে হাত নাড়েন। বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বুঝিয়ে দেন, তিনি সুস্থ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সাতদিন বিশ্রামে থাকতে হবে তাঁকে। চিকিৎসকরা প্রতিনিয়ত তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখবেন। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ