চলতি বিশ্বকাপে সেরা গোলদাতার দৌড়ে এখন একই বিন্দুতে লিও মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপে। দু’জনের ঝুলিতেই আপাতত হাফ ডজন গোল। তাই রাউন্ড অব ৩২’এর ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নিতে চাইবেন মেসি। কারণ তিনি জানেন, এরপর এমন প্রতিপক্ষ পাওয়া সম্ভব নয়। তবে মেসির ইচ্ছে এবং বাস্তবের মধ্যে দাঁড়িয়ে কেপ ভার্দের অবিসংবাদিত নায়ক গোলরক্ষক ভোজিনহা। মায়ামি অর্থাৎ নিজের ডেরায় তাঁকে হারানোই এলএমটেনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
অঘটনের এই বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলটির কিছুই হারানোর নেই। তাই সর্বশক্তি নিয়ে তারা তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে ছিটকে দিতে অস্ত্রে শান দিচ্ছে। কিন্তু দলকে সোনালি কাপের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়াই তো লক্ষ্য এক এবং অদ্বিতীয় মেসির। চলতি বিশ্বকাপে তিনিই দলের ‘দ্য বস’। অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া না থাকায় তাঁর উপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে স্কালোনি-ব্রিগেডের। এই আস্থার মর্যাদা অক্লেশে আজীবন তিনি দিয়ে এসেছেন। এবারও দিচ্ছেন। মায়ামি তাই মেসি-ম্যাজিকের দিন গুনছে। কোচ স্কালোনি পরিচিত ৪-৪-২ ফর্মেশনে দল সাজাবেন। আপফ্রন্টে মেসির সঙ্গে লাওতারো। মাঝমাঠে ডে পল, ম্যাক-অ্যালিস্টার, ফার্নান্ডেজ ও আলমাদা। রক্ষণ সামলানোর দায়িত্বে মোলিনা, রোমেরো, লিসান্ড্রো ও মেডিনার উপর। গোলে চিরবিশ্বস্ত এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। আর্জেন্তিনার শিবিরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, কেপ ভার্দের রক্ষণ ভাঙার জন্য উইং প্লে’র পাশাপাশি ‘ডাউন দ্য মিডল’ মুভের উপর আস্থা রাখছেন কোচ স্কালোনি।
মায়ামির বিচ বড়োই শান্ত। ব্রাজিলের কোপাকাবানার সঙ্গে একফোঁটাও মিল নেই। পর্যটকরা আসছেন আনন্দ নিতে। কিন্তু কেউই বেসামাল নন। সমুদ্রের ঢেউ একের পর এক আছড়ে পড়ছে ফসফরাসকে সঙ্গে নিয়ে। এই দৃশ্যের সঙ্গে আর্জেন্তিনার মিল রয়েছে। মেসির ভূমিকা ঢেউয়ের মতোই। সহ-ফুটবলারদের নিয়ে তিনি আছড়ে পড়ছেন বিপক্ষ বক্সে। পর্যটকদের মতোই যা উপভোগ করছে কলকাতা টু ক্যালিফোর্নিয়া।
মেসির ঢেউ থামাতে তৈরি ভোজিনহা। তাঁর নামেই অনেক গল্প। বাবা হোসে পেড্রো ডায়াস ছিলেন আর্জেন্তিনা ফুটবলের অনুরাগী। ভেবেছিলেন, ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্তিনার দ্বিতীয় গোলদাতা জর্জ (স্প্যানিশ উচ্চারণ হর্হে বা খর্খে) ভালদানোর নামে ছেলের নাম রাখবেন। কিন্তু কেপ ভার্দের আইনে তা আটকে যায়। তাই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার জোসিমারের নামই তিনি বেছে নেন। ছোটোবেলায় জোসিমার থাকতেন তাঁর ঠাকুমার কাছে। যাবতীয় আবদার মেটাতেন তিনি। তাই বন্ধুরা জোসিমারকে ‘ভোজিনহা’ (পর্তুগিজ ভাষায় ছোটো ঠাকুমা) বলে ডাকতে শুরু করে। ক্রমশ এই নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক।
ম্যাচের আগে মেসি সম্পর্কে ভোজিনহার মন্তব্য, ‘বিশ্বের সেরা ফুটবলারের জন্য নতুন বিশেষণ আমার অজানা। অসম্ভবকে সম্ভব করার অপর নামই মেসি। প্রতিপক্ষকে সম্মান দেওয়া আমার কর্তব্য। ঠিক তেমনই মাঠে ওকে আটকাতে আমি তৈরি। রক্ষণ জমাট করেই দল প্রতি-আক্রমণে উঠবে।’
মেসি কি শুনেছেন তাঁর প্রতিপক্ষের কথা? মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম তাঁর গোল দেখতে তৈরি। বুয়েনস আইরেস-রোজারিও-কর্ডোবা থেকে প্রচুর সমর্থক চলে এসেছেন এখানে। রাজপথের রং এখন নীল-সাদা। পোস্টার, ব্যানার কিংবা ফেস্টুনে শুধুই মেসি। না, রয়েছেন তাঁর উত্তরসূরি ডিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনাও। শুক্রবার ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর নামই শোনা যাবে গ্যালারিতে। ভোজিনহার চ্যালেঞ্জ টপকাতে পারলেই শেষ ষোলোয় মেসি-ব্রিগেড।