আর্জেন্তিনা-৩ : ভেনিজুয়েলা-০
(মেসি-২, লাওতারো)
আর্জেন্তিনা-৩ : ভেনিজুয়েলা-০
(মেসি-২, লাওতারো)
বুয়েনস আইরেস: ‘বার্সেলোনায় অনেক ভালোবাসা পেয়েছি, এখনও পাই। কিন্তু স্বপ্ন ছিল নিজের দেশের, নিজের মানুষের থেকে তা পাওয়ার। অবশেষে তা পূরণ হল।’ — বলতে বলতে আবেগে গলা বুজে আসছিল মহাতারকার। তাঁর কথা শেষ হওয়ার আগেই শোনা গেল ‘মেসি, মেসি’ চিৎকার। মায়াবী শব্দব্রহ্মে কেঁপে উঠল এস্তাদিও মনুমেন্টাল। মায়াবীই তো!
স্টেডিয়াম জুড়ে মেসিপ্রেমীরা তখন কাঁদতে কাঁদতে স্লোগান দিচ্ছেন। চোখে জল সবারই। স্বয়ং লায়োনেল মেসির চোখের কোণও চিকচিক করছে। কিছুক্ষণ আগেই দেশের মাটিতে আর্জেন্তিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে যথারীতি দেখা গিয়েছে মেসি-জাদুও। এলএমটেনের জোড়া গোলেই বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী লায়োনেল স্কালোনির দল। অপর গোলদাতা লাওতারো মার্তিনেজ।
আর্জেন্তিনা আগেই বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। সেই নিরিখে এই ম্যাচ নিছকই নিয়মরক্ষার। কিন্তু ক’দিন আগে মেসির এক ঘোষণার পরই প্রেক্ষাপট বদলায়। তিনি জানিয়ে দেন, ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধেই শেষবার দেশের মাটিতে খেলবেন তিনি। ব্যাস! নিমেষে টিকিট ‘সোল্ড আউট’। দুপুর থেকেই বুয়েনেস আইরেসের প্রতিটি রাজপথ মিশতে শুরু করে এস্তাদিও মনুমেন্টালে। টানেল দিয়ে মহারথী সবুজ গালিচায় প্রবেশ করতেই গর্জন। অনুরাগীদের আবেগে চোখের জল আটকাতে পারলেন না মেসি। কাঁদতে কাঁদতেই সারলেন ওয়ার্ম-আপ।
জাতীয় সঙ্গীতের সময় লিও আবার ধরা দিলেন অন্যরূপে। পুরো স্টেডিয়াম তাঁর জয়ধ্বনিতে ব্যস্ত। সতীর্থ এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, কুটি রোমেরোরা কেঁদে ভাসাচ্ছেন। গ্যালারিতে স্ত্রী আন্তোলেনা রোকুজ্জো, বাবা জর্জে মেসির অবস্থাও তথৈবচ। কিন্তু তিনি কাঁদছেন না একেবারেই। বরং তাঁর মুখে এক চিলতে হাসি। রূপকথার মুহূর্তটা যেন তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছেন। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা তিন ছেলে মাতেও, থিয়াগো এবং সিরোর সঙ্গে খুনসুটিও করলেন।
রেফারির বাঁশিতে খেলা শুরু হতেই অবশ্য আবেগ উধাও। ‘যোদ্ধা মেসি’ মোড অ্যাকটিভেটেড! বাঁ-পায়ের জাদুতে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের নাচিয়ে ছাড়লেন। কখনও সতীর্থকে বল সাজিয়ে দিলেন। কখনও দূরপাল্লার শট নিলেন। ৩৮ মিনিটে আর্জেন্তিনাকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দিলেন লায়োনেলই। প্রতিপক্ষ মিডিওর থেকে বল ছিনিয়ে নিয়েছিলেন পারেদেস। আউটস্টেপে তাঁর ঠিকানা লেখা থ্রু বক্সের সামনে খুঁজে নিল আলভারেজকে। আতলেতিকো মাদ্রিদের স্ট্রাইকার নিজেই শট নিতে পারতেন। তবে মেসিকে এগিয়ে আসতে দেখে পাস বাড়ালেন। তা ধরে বক্সে উপস্থিত ভেনিজুয়েলার তিন ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বাঁ পায়ের টোকায় দূরন্ত লবে বল জালে জড়ালেন মেসি (১-০)।
দ্বিতীয়ার্ধেও আর্জেন্তিনার দাপট অব্যাহত। ৭৬ মিনিটে বাঁ দিক থেকে নিকো গঞ্জালেসের ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন লাওতারো মার্তিনেজ (২-০)। চার মিনিট পর প্রতিপক্ষের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতলেন মেসিই। ডান দিক থেকে আলমাদার বাড়ানো পাস ধরে ঠান্ডা মাথায় প্লেসমেন্ট। বল জালে জড়িয়ে গেল (৩-০)। রেফারির শেষ বাঁজি বাজতেই হর্ষ-বিষাদ এস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে। আনন্দের পাশাপাশি থাকল আক্ষেপ। আগামীতে দেশের মাটিতে মেসি-ম্যাজিক আর দেখতে পাওয়া যাবে না যে! সতীর্থরা এসে জড়িয়ে ধরতেই লিওর মন্তব্য, ‘তোমরা দেখছি আমায় কাঁদিয়েই ছাড়বে।’
পরে সম্প্রচারকারী সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে মেসি বলেন, ‘ফুটবলটা এখনও দারুণভাবে উপভোগ করি। জানি, একদিন থামতেই হবে। আর কয়েক মাস পরেই বিশ্বকাপ। তাই বাড়তি প্রেরণা পাচ্ছি।’