মার্কিন মুলুকে কাপযুদ্ধের ঢাকে কাঠি পড়েছে গত ১১ জুন। তবে আপামর বাঙালির জন্য বিশ্বকাপের প্রকৃত বোধন হল বুধবার সকালে। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত হ্যাটট্রিক লিও মেসির। তাঁর এই পারফরম্যান্সের জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। চার বছর আগেই কাতারে অধরা মাধুরীর স্বাদ পেয়েছেন আর্জেন্তাইন মহাতারকা। কিন্তু মেসি বলতে পেরেছেন, ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর। তারই ফসল এই হ্যাটট্রিক, যা আমাদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিল। প্রথম ম্যাচেই বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলের নিরিখে মিরোস্লাভ ক্লোজেকে ছুয়ে ফেলল সে। জানি না, শেষ পর্যন্ত কোথায় থামবে!
আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন স্কালোনি। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর উপলব্ধি, উইং থেকে বারবার আক্রমণ শানাতে থাকে আলজেরিয়া। তাই দ্রুত ফর্মেশন বদল করে ৪-৪-২ করেন তিনি। আর তাতেই খোলে গোলের দরজা। ম্যাচের তিন মিনিটে মেসির লক্ষ্যভেদ অফ-সাইডের কারণে বাতিল হলেও, গোলের জন্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৭ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে রডরিগো ডে পলের বাড়ানো থ্রু ধরে যেভাবে জাল কাঁপাল লিও, তা এককথায় অতুলনীয়। তবে এক্ষেত্রে আলজেরিয়া গোলরক্ষককে দায়ী করতেই হবে। কেন ওভাবে দু’হাত নিয়ে ঝাঁপাবে জিদানপুত্র লুকা? বরং এক হাতে চেষ্টা করলে অনেক বেশি স্ট্রেচ করতে পারত।
ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি আলজেরিয়া। প্রথমার্ধের একটা সময় আর্জেন্তিনার চেয়ে অনেক বেশি পাস খেলে তারা। বিশেষত ওদের আপফ্রন্টের তিনটি ফুটবলারই বেশ নজর কাড়ল। তবে বিরতির পর ফের একবার গোলরক্ষকের ভুলে ডুবল আলজেরিয়া। এক্ষেত্রে বক্সের বাইরে থেকে ম্যাক অ্যালিস্টারের শট গ্রিপ করতে ব্যর্থ লুকা। ছিটকে আসা বল যোগ্য সুযোগসন্ধানীর মতোই গোলে ঠেলে মেসি। আর তৃতীয় গোলটা আমার মতে দিনের সেরা। টপ বক্সের মাথা থেকে খুব অনায়াসেই গড়ানো শটে জালে জড়ালেন বাঁ পায়ের জাদুকর। এই আলজেরিয়ার বিরুদ্ধেই ২০০৭ সালে জোড়া গোলে দলকে জিতিয়েছিল মেসি। তবে বিশ্বকাপের আসরে তাঁর প্রথম হ্যাটট্রিক অবশ্যই স্পেশাল হয়ে থাকবে। একইসঙ্গে এদিন ওর একটি ট্যাকল নিয়ে কথা না বললেই নয়। বিপক্ষ ফুটবলারকে যেভাবে সে ফাউল করল, তাতে রেফারি আরও কড়া পদক্ষেপ নিতেই পারতেন।
বিশ্বকাপ সবে শুরু। এখনো অনেক পথ চলা বাকি। তবে প্রথম ম্যাচেই মেসি বুঝিয়ে দিল, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বাদ পেতে তিনি কতটা মরিয়া। আর প্রিয় ফুটবলারের হাতে ওই সোনালি ট্রফিটা দেখতে ততটাই উদগ্রীব মেসি-অনুরাগীরা। তাই তো বুধবার সকালের পর পাড়ার চায়ের দোকানে অন্য দলের সমর্থকদের দেখে তারা বলতেই পারে, ‘ইয়ে তো সির্ফ ট্রেলার হ্যায়, পিকচার আভি বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত।’