Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরে ভারতী সর্বজনীনের থিমে হারানো শৈশব ফেরানোর বার্তা

পৃথিবীর আলো দেখতেই হাতে দেওয়া হচ্ছে স্মার্ট ফোন। আর একটু বেড়ে উঠতেই ফোনে কার্টুন সহ গেমে মগ্ন থাকছে শিশুমন।

দুর্গাপুরে ভারতী সর্বজনীনের থিমে হারানো শৈশব ফেরানোর বার্তা
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: পৃথিবীর আলো দেখতেই হাতে দেওয়া হচ্ছে স্মার্ট ফোন। আর একটু বেড়ে উঠতেই ফোনে কার্টুন সহ গেমে মগ্ন থাকছে শিশুমন। হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব। হারিয়ে যাচ্ছে লুকোচুরি, ডাংগুলির মতো গ্রামবাংলার বহু পুরনো খেলা। তাই শৈশব ফেরাতে ও বাবা-মা’কে সচেতন করতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দুর্গাপুরের ভারতী সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপের থিম। ৫৫তম বর্ষের পুজোর এই থিমের নাম, ‘খেল না’। দুর্গাপুরের বিগ বাজেটের পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম এই ক্লাব, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে বলে দাবি পুজো উদ্যোক্তাদের।

Advertisement

পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর থেকে এই পুজোর বাজেট বেড়েছে। গত বছর তাদের থিম ছিল ‘জল সংরক্ষণ’। জীবজগতের ভারসাম্য রক্ষার্থে সমাজে সচেতনতার বার্তা দিয়ে থিম সেজে ওঠে। সমাজের মঙ্গল কামনায় অনুকূল পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিয়েই তাদের পুজোর থিম গড়ে ওঠে। পুজো কমিটির সভাপতি নমেন্দুনাথ ভট্টাচার্য ও সম্পাদক কৃষ্ণচন্দ্র সাধু বলেন, পড়াশোনার প্রতিযোগিতা সহ মোবাইল ফোনের দাপটে শিশুরা শৈশব হারাচ্ছে। মাঠেঘাটে খেলাধুলা করতে আর দেখা যায় না। গুটিকয়েক ছেলেদের কেবল ফুটবল, ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়। তবে নতুন প্রজন্মের বেশিরভাগই ফুটবল, ক্রিকেট মোবাইল ফোনে খেলছে। খেলা ছাড়াও শরীর সহ মানসিক বিকাশ হবে না। তারা কানামাছি, বাগবন্দি, এক্কা-দোক্কা, ল্যাংচা, ডাংগুলি ও কিত কিত সহ বহু খেলার নামই জানে না। ওই সমস্ত খেলাধুলার কী স্বাদ তাও জানে না। তাই আমরা পুজো মণ্ডপে হারিয়ে যাওয়া নানান খেলার চিত্র তুলে ধরছি। পাশাপাশি শিশুদের এটাই বার্তা দিচ্ছি, তোরা মোবাইল ছেড়ে মাঠেঘাটে ‘খেল... না’।
তিনি আরও বলেন, গত বছর বিশাল আকৃতির কাঠের প্রতিমা গড়ে প্রথমবার বিগ বাজেটের পুজো করে চমক দিয়েছিলাম। সমাজকে সচেতন করেছিলাম থিমের মাধ্যমে। এবার ফের সচেতনতামূলক থিম করা হচ্ছে। এবারের পুজোর বাজেট প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। আমাদের মণ্ডপের থিম ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গাপুরের শিল্পী পরিতোষ সিকদার। কমিটিতে প্রায় ৪০ জন মহিলা রয়েছেন। তাঁরাও পুজোর সমস্ত রকম কাজে তৎপরতার সঙ্গে নিযুক্ত থাকেন।
পুজোর সদস্যা প্রিয়া লাহিড়ী বলেন, পুজোর নবমীর দিন এলাকার প্রায় ৪ হাজার মানুষকে মহাভোগ দেওয়া হয়। মহাভোগের পদে থাকে ফ্রায়েড রাইস, আলুর দম, চাটনি ও পায়েস। পুজোর দিনে ‘পাড়ার সেরা দিদি নম্বর ওয়ান’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যা শহরের একটি বিশেষ আকর্ষণীয়  অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে। এই বছরও ফের অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এছাড়াও পাড়ার প্রতিভাবান শিশুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। পুজোর প্রতিদিনই সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে। আমরা মহিলা সদস্যরাও পুজোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাগুলি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে থাকি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ