Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

অবশেষে শুল্কযুদ্ধে একজোট দুই প্রতিবেশী, খুলছে বাণিজ্যের দরজা, মোদি ও জিনপিং বৈঠকে বন্ধুত্ব-বার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শুল্ক-গুঁতো’ আগেই কাছাকাছি এনেছিল দুই দেশকে। এবার পুরনো সমস্ত তিক্ততা ভুলে একসঙ্গে পথ চলার বার্তা দিল ভারত ও চীন। অবশেষে।

অবশেষে শুল্কযুদ্ধে একজোট দুই প্রতিবেশী, খুলছে বাণিজ্যের দরজা, মোদি ও জিনপিং বৈঠকে বন্ধুত্ব-বার্তা
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:০৯
Prefer us on Google

তিয়ানজিন (চীন): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শুল্ক-গুঁতো’ আগেই কাছাকাছি এনেছিল দুই দেশকে। এবার পুরনো সমস্ত তিক্ততা ভুলে একসঙ্গে পথ চলার বার্তা দিল ভারত ও চীন। কারণ, স্বাধীনতার পর এতদিন প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বের প্রধান দুই জনবহুল দেশের মধ্যে নিখোঁজ ছিল একটিই সমীকরণ—বন্ধুত্ব। এবার বৈঠকের পর দিল্লি জানিয়ে দিল, দুই দেশ আর শত্রু নয়, বরং উন্নয়নের সঙ্গী। 

Advertisement

চীনের তিয়ানজিন শহরে শুরু হয়েছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠক। রবিবার সেই বৈঠকের ফাঁকে মুখোমুখি হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং। আর সেই বৈঠকে বারবার শোনা গেল, সুস্থির ও দীর্ঘমেয়াদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের কথা। মোদি জানালেন, দুই দেশের ২৮০ কোটির বেশি জনগণের স্বার্থে ভারত ও চীনের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহায়তার পরিবেশ থাকা প্রয়োজন। উন্নয়নের স্বার্থে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আগামী দিনে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের দুই দেশকে। 
২০২০ সালে গলওয়ানে সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত ও চীনের সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল। সম্প্রতি অপারেশন সিন্দুরের সময়ও ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হাতিয়ার ছিল চীন থেকে আমদানি করা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও যুদ্ধবিমান। কিন্তু ট্রাম্প চড়া হারে শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। তখনই জিনপিংয়ের মুখে শোনা যায় ড্রাগন ও হাতির নাচের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য। সেটাই ছিল পুরনো দ্বন্দ্ব ভুলে বেজিং ও দিল্লির কাছাকাছি আসার সূত্রপাত। পরবর্তী ঘোষণা ছিল মোদির, সাত বছর পর তাঁর চীন যাত্রার। জিনপিং ও মোদির মধ্যে কী আলোচনা হয়, গোটা বিশ্বের নজর ছিল সেদিকেই। বৈঠক যে ফলপ্রসূ হয়েছে, সে ব্যাপারে সংশয় নেই। কারণ, এই দুই দেশের অর্থনীতি যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে স্থিতিশীল করতে পারে, সেই বিষয়ে সহমত হয়েছেন মোদি-জিনপিং। খুলছে বাণিজ্যের দরজা। সিদ্ধান্ত হয়েছে, বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে দ্বিপাক্ষিক লেনদেন বাড়ানো হবে। সম্প্রতি ভারতীয় পুণ্যার্থীদের জন্য কৈলাস-মানসরোবর যাত্রায় ছাড়পত্র দিয়েছে বেজিং। চালু হয়েছে ট্যুরিস্ট ভিসাও। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চালু করা নিয়েও কথা হয়। জিনপিংয়ের প্রস্তাবে মোদি সায় দিলেও কবে নাগাদ সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হবে, তা নিয়ে কোনও ঘোষণা হয়নি। ভিসা অনুমোদনের বিষয়টি নিয়েও কথা হয়।  আগামী বছর ভারতে ব্রিকস গোষ্ঠীর বৈঠক। সেখানে যোগদানের জন্য জিনপিংকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মোদি। বৈঠকে ফের হাতি ও ড্রাগন প্রসঙ্গ টেনে জিনপিং বলেছেন, ‘দুই দেশের বন্ধুত্ব একদম সঠিক সিদ্ধান্ত। সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ভারতের সঙ্গে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। সীমান্ত সমস্যার উপর আর ভারত-চীনের সম্পর্ক নির্ভর করবে না।’ যদিও বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি জানান, সীমান্তে শান্তির বিষয়টি ভারত-চীনের সম্পর্কে ‘বিমা’র মতো।  প্রধানমন্ত্রীও সেকথা জানিয়ে দিয়েছেন।
কংগ্রেস অবশ্য চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিককালে বেজিংয়ের বিরুদ্ধে বারবার ভারতের ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখল করার অভিযোগ উঠেছে। সেই দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করে কি কেন্দ্র সেই আগ্রাসনকেই বৈধতা দিতে চাইছে? এদিন মোদি সরকারকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলেও অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। জয়রাম রমেশ বলেন, ‘২০২০ সালে চীনের আগ্রাসনের জন্য গলওয়ানে ২০ জন জওয়ানকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। এদিনের বৈঠককে সেই প্রেক্ষাপটেই বিচার করা উচিত।’
আন্তর্জাতিক মহল যদিও মোদি-জিনপিংয়ের বৈঠকে নড়েচড়েই বসেছে। কারণ, নতুন অক্ষ দানা বাঁধছে। এবার শুধু সিলমোহরের অপেক্ষা। কে দেবেন সেই সিলমোহর? ভ্লাদিমির পুতিন?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ