নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সামনের মাস থেকে কিউআর কোডে স্ক্যান করে ২ হাজার টাকার বেশি দিলে, ব্যবসায়ীকে গুনতে হবে ‘চার্জ’। এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে গিয়েছে। এদিকে দুর্গাপুজো আসন্ন। পশ্চিমবঙ্গের শহর থেকে শহরতলি ব্যবসা-বাণিজ্যের এটাই সময়। এমন সময় এই ইউপিআই কাঁটাকে মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন ফন্দি আঁটা শুরু করেছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ী। কিন্তু ইউপিআইকে ত্যাগ করার কথা ভাবতেই পারছেন না কেউ। কারণ, এটাই যে মানুষের অভ্যাস! এখন রাতারাতি ইউপিআই বন্ধ করে দিলে চলবে না।
তাছাড়া বিষয়টি যেহেতু ২ হাজার টাকার উপরে তাই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে মূলত বস্ত্র ব্যবসায়ী, পেট্রলপাম্প, রেস্তোরাঁসহ বেশি বিল হওয়া দোকানিদের। গড়িয়াহাট চত্বরে ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ী থেকে ক্রেতাদের মধ্যে এই আলোচনা শুরু হয়েছে। গড়িয়াহাট চত্বরের একটি শপিং কমপ্লেক্সের এক দোকানি বলছিলেন, ‘আমাদের মধ্যে তো ইউপিআই ব্যবহার করার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। ক্রেতারা নগদ দিয়ে জিনিসপত্র কিনতেও চান না। নগদের ব্যবহারই অনেকটা কমে গিয়েছে। এখন যদি ৬ হাজার টাকা দিতে হয়, তাহলে ১৯৯৯ টাকা করে পাঠাতে হবে।’ যদিও এখনো পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ব্যবসায়ী লেনদেনের ক্ষেত্রেই এই অতিরিক্ত চার্জ গুনতে হবে। আর এক ব্যবসায়ী বলছিলেন, ‘২ হাজার টাকার বেশি বিল হলে, নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওই টাকা নিয়ে নেব। আইন যেমন আছে, তেমন আইনের ফাঁকও রয়েছে।’
আবার, এই গড়িয়াহাট চত্বরে এই চার্জের পক্ষে থাকা ব্যবসায়ীদেরও খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। এরকম অনেকে বলেছেন, ‘সরকার ঠিক করে দিয়েছে যখন, কিছু তো করার নেই। দেশের জন্যও তো ভাবতে হবে।’ কিন্তু ক্রেতাদের মধ্যে প্রশ্ন, এই মাশুলের খাঁড়া কি আসলে ঘুরে ফিরে তাঁদের উপরেই পড়বে? পুজোর বাজার করতে আসা এক ক্রেতার বক্তব্য, ‘এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা কে বইবে? ঘুরে যদি আমাদের উপরেই আসে, সেটা তো ঠিক নয়। তার চেয়ে কোনোভাবেই আমরা ২ হাজার টাকার বেশি টাকা ইউপিআইতে দেব না। বিকল্প কিছু তো ভাবতেই হবে।’