নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্রমাগত উত্যক্ত করায় এক তরুণকে আচমকা ঘুসি মারার অভিযোগ ওঠে মানসিক বিকারগ্রস্ত এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে তরুণটি মারা যান। ঘটনার ছ’বছর পর অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলায় মঙ্গলবার অভিযুক্ত যুবককে দোষী সাব্যস্ত করল শিয়ালদহ আদালত। তবে বিচারক তাঁকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেননি। আইনের বিধান মেনে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকটিকে জেলের নিরাপদ স্থানে রেখে সুষ্ঠু চিকিৎসার নির্দেশ দেন বিচারক। সে ক্ষেত্রে আদালতের মন্তব্য, যুবকটি সুস্থ হলে তাঁকে তাঁর পরিবারের লোকজন বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।
মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি বরুণ দত্ত এদিন জানান, ২০১৯ সালে তপসিয়া থানা এলাকায় ওই ঘটনার পর অভিযুক্ত মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকটির বিরুদ্ধে পুলিস অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করে। আদালতের নির্দেশে বার কয়েক মেডিক্যাল বোর্ড বসানো হয়। সেখানে যুবকটির নানা শারীরিক পরীক্ষা‑নিরীক্ষার রিপোর্ট কোর্টের কাছে পেশ করা হয়। পুলিস তদন্ত শেষ করে শিয়ালদহ আদালতে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে। এরপরই চার্জ গঠন করে শুরু হয় মূল মামলার বিচার। মামলায় সাক্ষ্য দেন মোট ১৪ জন। তার মধ্যে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকও ছিলেন। সমস্ত সাক্ষ্য‑প্রমাণের ভিত্তিতে এদিন আদালত অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলায় যুবককে দোষী সাব্যস্ত করে। বিচারক সরকার ও অভিযুক্ত পক্ষকে জানিয়ে দেয়, আইনের বিধান মেনে তাঁকে সুষ্ঠু চিকিৎসার জন্য সংশোধনাগারে পাঠানো হল। যাতে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন। সরকারি কৌঁসুলিদের একাংশের বক্তব্য, আদালত এদিন এই মামলার রায় দিতে গিয়ে যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা এক কথায় যথার্থ এবং নজিরবিহীন। এদিকে, জেলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে আদালত যা যা নির্দেশ দিয়েছে তা আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। শুধু তাই নয়, যুবকটির সুষ্ঠু চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি যুবকটি যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন, তারজন্যও জেলের তরফেও নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তাঁর উপর ২৪ ঘণ্টার নজরদারিও রাখা হবে।