Bartaman Logo
১৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুষদের ভোটের হার ৯১.৬৫ শতাংশ মহিলাদের ৯৫.৮১ শতাংশ, ভোটদানে এগিয়ে মহিলারা,আশায় তৃণমূল

মুর্শিদাবাদ জেলায় পুরুষদের তুলনায় মহিলারা বেশি ভোট দিয়েছেন। তুলনামূলক বিচারে ভোটের হার ৪.১৬ শতাংশ বেশি

পুরুষদের ভোটের হার ৯১.৬৫ শতাংশ  মহিলাদের ৯৫.৮১ শতাংশ, ভোটদানে এগিয়ে মহিলারা,আশায় তৃণমূল
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর:  মুর্শিদাবাদ জেলায় পুরুষদের তুলনায় মহিলারা বেশি ভোট দিয়েছেন। তুলনামূলক বিচারে ভোটের হার ৪.১৬ শতাংশ বেশি। স্বাভাবিকভাবেই এই মহিলা ভোট এবার নির্বাচনের ফলাফলে অন্যতম বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। তার চেয়েও বড় কথা, মহিলাদের মন কারা জয় করল, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে জেলাজুড়ে।  

Advertisement

পরিসংখ্যান বলছে, জেলার ২২টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ২৫ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৮১ জন পুরুষ ভোটারের মধ্যে ৯১.৬৫ শতাংশ পুরুষ ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ, পুরুষদের মোট ভোট পড়েছে ২৩ লক্ষ ৭২ হাজার ৬১৫টি। অন্যদিকে, ২৪ লক্ষ ৩৭ হাজার ৩৮৪ জন মহিলা ভোটারের মধ্যে ৯৫.৮১ শতাংশ মহিলা ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ, ২৩ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৯০টি ভোট পড়েছে। প্রতি ১০ হাজার জন ভোটারের মধ্যে পুরুষদের তুলনায় ৪১৬ জন বেশি মহিলা ভোট দিয়েছেন। 
সব থেকে বেশি মহিলা ভোট পড়েছে ভগবানগোলা বিধানসভায়। এই কেন্দ্রে ১ লক্ষ ৯ হাজার ৯৫৮ জন মহিলা ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লক্ষ ৭ হাজার ২৭৫ জন। অর্থাৎ ৯৭.৫৬ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রঘুনাথগঞ্জ। সেখানে ৯৬ হাজার ৫৪১ জন মহিলার মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৯৩ হাজার ৯৪৫ জন। অর্থাৎ ভোটের হার ৯৭.৩১ শতাংশ। এছাড়া ৯৭ শতাংশ মহিলা ভোট পড়েছে ডোমকল ও রানিনগর বিধানসভায়। ৯৬ শতাংশ মহিলা ভোট পড়েছে ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ, জঙ্গিপুর, লালগোলা, সূতি ও জলঙ্গি বিধানসভাতে। 
এখন প্রশ্ন হল, ভোট প্রদানে এবার কেন পুরুষদের হারিয়ে দিলেন মহিলারা? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ব্যাখ্যা, তৃণমূল সরকারের জনমুখী প্রকল্পের মধ্যে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মহিলাদের। লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, বিধবা ভাতার মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি থেকে সরাসরি সুবধা পাচ্ছেন মহিলারা। এটাই মূলত ভোটদানে বাড়তি উৎসাহ জুগিয়েছে। সেক্ষেত্রে তৃণমূল বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।  
বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা কান্দির প্রার্থী অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, ‘মহিলাদের অধিকাংশই আমাদের সমর্থনে ভোট দিয়েছেন বলে বিশ্বাস। এই জেলার অন্তত ৩০ লক্ষ মেয়ে এবং মহিলা ভোটাররা বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পান। সকলেই এই সরকারের আমলে উপকৃত হয়েছেন। আশা করছি এবারের ভোট বাক্সে এর প্রভাব পড়বে।’
প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি মহাফুজ আলম ডালিম বলেন, ‘এই রাজ্যে নারীরা সুরক্ষিত নন। আর জি করের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। নারীদের সুরক্ষার স্বার্থে এবার মহিলারা এত পরিমাণে ভোট দিয়েছেন। ফলে, তৃণমূল যে আশা করছে তা হবে না।’ বিজেপি নেতা লাল্টু দাস বলেন, ‘প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা করে দেবে বিজেপির সরকার। এই টাকা নিশ্চিত করতেই মহিলারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন বলে আমি মনে করি।’ তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা অশোক দাস বলেন, ‘বিজেপি মানেই জুমলা। নির্বাচনের আগে তিন হাজার টাকার ঢপ দেওয়া শুরু করেছে। এই প্রতিশ্রুতি মানুষ বিশ্বাস করেনি। ওরা যদি সত্যি মহিলাদের উন্নতির কথা ভাবত, তাহলে যেখানে বিজেপি শাসিত সরকার চলছে সেখানে কেন এতদিন মহিলাদের জন্য এই প্রকল্প চালু করেনি?’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ