


সুকমল দালাল, বোলপুর: বৈষ্ণব পদাবলীর স্রষ্টা কবি চণ্ডীদাসের স্মৃতিবিজড়িত নানুর একসময় রাজনৈতিক হিংসা আর বিস্ফোরণের শব্দে চর্চিত ছিল। নির্বাচন মানেই আতঙ্ক, বোমা-গুলির শব্দ, এই ধারণা বহু বছর ধরে মানুষের মনে গেথে গিয়েছিল। এবার ভোটে সেই চিত্র যেন অনেকটাই বদলে গেল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বুথের সামনে লম্বা লাইন দেখা যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত অশান্তিহীন ভোট হওয়ায় ভোটারদের মুখেও স্বস্তির ছাপ দেখা যায়।
২০০০সালের সূচপুর গণহত্যা থেকে শুরু করে পরবর্তী একাধিক রক্তক্ষয়ী ঘটনা, সব মিলিয়ে এই এলাকা দীর্ঘদিন ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবেই চিহ্নিত ছিল। বোমা-বারুদের গন্ধ ছিল নিত্যসঙ্গী। যা এখন একেবারেই নেই। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও রক্তপাত হয়নি। এদিন সকাল থেকে বুথে বুথে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ, নিরাপত্তার কড়াকড়ি সব মিলিয়ে সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের নানুর অনেকটাই আলাদা। পাপুড়ির প্রবীণ ভোটার শেখ সিরাজুল বলেন, আগে ভোট মানেই ভয় ছিল। বাম জমানাতেও সন্ত্রাসের বাতাবরণ ছড়িয়েছিল। এখন নিজের মতো করে ভোট দিতে পারছি, এটাই বড় পরিবর্তন। বাহিরী গ্রামের মহিলা ভোটার রেকসোনা বেগম বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলাম, কোনও অশান্তি হয়নি। এখন উন্নয়নই বড় কথা।
এদিন সকাল ৭টার পরই ২৩৭নম্বর বুথে পাপুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় বুথে পৌঁছান হাসন বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখ। নানুরের রাজনীতি তাঁর নখদর্পণে। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি বলেন, মানুষ সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোট নিজে দিচ্ছেন। মুখের হাসিই বলে দিচ্ছে উন্নয়নের পক্ষেই রায় যাবে। তাঁর দাবি, এই ভোট জমিদারি মানসিকতার বিরুদ্ধে, বঞ্চনার বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, আড়াইশোর বেশি আসন নিয়ে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কাজল বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে রাতভর পুলিশি চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এমনকি তাঁর নির্বাচনি এজেন্টের বাড়িতেও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপি প্রার্থী খোকন দাস বলেন, অনেক জায়গাতেই আমাদের ভোটারদের ভয় দেখানো ও ভোটদানে বাধা দেওয়া চেষ্টা চলেছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত অশান্তি সৃষ্টিকারী ৪৩জনের তালিকা ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে কাজলের ভাইপো নানুরের যুব তৃণমূল সভাপতি হুমায়ুন শেখের। এব্যাপারে কাজল বলেন, এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত। নানুরের যুবদের নেতৃত্ব দেওয়ায় ওকে টার্গেট করা হচ্ছে। এটা বিজেপির ষড়যন্ত্র।