সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আজ, বুধবার শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মার পুজো। প্রতিবছরই পুজোকে কেন্দ্র করে নবদ্বীপ বাসস্ট্যান্ডের কর্মীরা আনন্দে মেতে ওঠেন। ১৭বছর ধরে জাঁকজমকের সঙ্গে নবদ্বীপ বাসস্ট্যান্ডে এই পুজো করে আসছেন নদীয়া জেলা বাস পরিবহণ কর্মী ইউনিয়নের সদস্যরা। বাসচালক, কন্ডাক্টর, হেল্পার সহ বাসস্ট্যান্ডের সব কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও এই পুজোয় অংশ নেন। মঙ্গলবারই বাসস্ট্যান্ড চত্বর রকমারি আলোয় সেজে উঠেছে। একটি কাল্পনিক মন্দিরের আদলে বাসস্ট্যান্ডের পুজো প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। সুদৃশ্য মণ্ডপে রয়েছে প্রায় আট ফুটের নজরকারা প্রতিমা। শুধু নবদ্বীপ নয়, পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলার মানুষজনও পুজো দেখতে ভিড় করেন। পুজোর দিন প্রায় দু’-তিন হাজার মানুষের জন্য প্রসাদের আয়োজন করা হয়।
এই পুজোয় কোনও চাঁদা নেওয়া হয় না। পুজোর সমস্ত খরচ বাস ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বহন করা হয়। বিশ্বকর্মা পুজোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইউনিয়নে তিনশোর বেশি সদস্য আছেন। কালীপুজো, বিশ্বকর্মা পুজোই নয়, সারা বছরই নানারকম সামাজিক কাজের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত থাকেন। রক্তদান শিবিরের আয়োজন থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষদের সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি বাসকর্মীরা বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টেও অংশগ্রহণ করেন।
নদীয়া জেলা বাস পরিবহণ কর্মী ইউনিয়নের নবদ্বীপ বাসস্ট্যান্ডের সম্পাদক সুজিত সরকার বলেন, এটি বাস শ্রমিকদের পুজো। সারা বছর এই দিনটার জন্য ইউনিয়নের শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবার অপেক্ষা করে থাকে। উপবাস থেকে তাঁরা পুজোর আয়োজনও করেন। প্রতিমা আনা থেকে পুজোর বাজার-হাট সবকিছুর দায়িত্ব পালন করেন মিন্টু সরকার, জয়ন্ত বসাক, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, শ্রীবাস ঘোষরা।
পাশাপাশি, এদিন বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষ্যে নবদ্বীপ পুরসভা প্রাঙ্গণ আলোকমালায় সেজে উঠেছে। সকাল থেকে নবদ্বীপের বিভিন্ন মোড়ে চলছে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনা।