


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলার গ্রামীণ এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা নিয়েছে রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় গঠিত ১২ লক্ষের বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। এসব গোষ্ঠীর ১ কোটি ২২ লক্ষ সদস্যকে আর্থিক স্বনির্ভরতার পথ দেখানোর পাশাপাশি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ আইনের পাঠ দিচ্ছে রাজ্য। আজ, ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিনটিকে সামনে রেখে ‘আনন্দধারা’ প্রকল্পের অধীন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য গত তিন মাস ধরে ৩৪৫টি ব্লকে বিশেষ শিবির চালিয়েছে রাজ্য। নভেম্বর মাসে চালু হওয়া এই শিবিরে পারিবারিক হিংসা, শিশুদের যৌন হেনস্তা, কর্মক্ষেত্রে হেনস্তা প্রতিরোধ আইন সম্পর্কে তাঁদের অবগত করা হয়েছে। এ রাজ্যের বহু মহিলা কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। অনেকের নিজের নামে জমি রয়েছে। সেই জমি যাতে কোনোভাবে হাতছাড়া না হয়, সেই লক্ষ্যে জমি আইন সম্পর্কেও সচেতন করা হয়েছে তাঁদের। রাজ্যে এই আনন্দধারা প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। দপ্তরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ করায় বর্তমানে দেশের সর্বাধিক স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে বাংলায়। সদস্যদের জীবন-জীবিকার মান যাতে ভালো হয়, সেই লক্ষ্যেই এই শিবিরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাজ্যের এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ করেছে পঞ্চায়েত দপ্তর। ১১ লক্ষ ৫৬ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ১ লক্ষ ৭১ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকার ঋণ প্রদান সুনিশ্চিত করা হয়েছে। যা ২০১০-১১ সালে ছিল মাত্র ৫৩০ কোটি টাকা। গোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১ লক্ষ। সহজ শর্তে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে এক-একটি গোষ্ঠীর গড় আর্থিক সহায়তা ২০১০-১১’র তুলনায় ছ’গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লক্ষ টাকায়। সদ্য চালু হলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। একে বলে ‘রিভলভিং ফান্ড’। এভাবে প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ গোষ্ঠীকে ১ হাজার ৭০১ কোটি টাকা দিয়েছে রাজ্য।